সুলিভান ব্রাদার্সের পর বাংলাদেশ ফুটবলে যুক্ত হচ্ছেন ইংল্যান্ড বংশোদ্ভূত ‘ওয়াহিদ ব্রাদার্স’। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার- ফারহান আলী ওয়াহিদ ও রায়হান আলী ওয়াহিদ বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
দুই ভাইয়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে হলেও পারিবারিকভাবে তাদের শিকড় বাংলাদেশে। বড় ভাই ফারহান বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব ফুলহ্যামের বয়সভিত্তিক দলে খেলছেন। ফুটবলে তার শুরুটা হয়েছিল চেলসির একাডেমিতে। পরে ২০১৯ সালে তিনি ফুলহামে যোগ দেন এবং ধাপে ধাপে ক্লাবটির অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-২১ দলে জায়গা করে নেন।
গত মৌসুমে চোটের কারণে কিছু সময় মাঠের বাইরে থাকলেও অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন ফারহান। পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২১ দলে সুযোগ পেয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও নিজের উপস্থিতি জানান দেন। বিশেষ করে পিএসভির বিপক্ষে এক ম্যাচে বদলি নেমে গোল করার পর তার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে এবং পেশাদার পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার পথও প্রশস্ত হয়।
অন্যদিকে ছোট ভাই রায়হান আলী ওয়াহিদ খেলছেন ওকিং এফসির হয়ে। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ও উইঙ্গার- দুই ভূমিকাতেই স্বচ্ছন্দ এই তরুণ আগে গ্রাসরুট পর্যায়ে অ্যাশফোর্ড এফসির হয়ে খেলেছেন। বয়সভিত্তিক বাংলাদেশ দলের জন্য তাকে সম্ভাবনাময় সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাহাদ করিমের দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ফারহানদের বিষয়ে যোগাযোগের সূত্রপাত হয় বিদেশভিত্তিক এক ফুটবল এজেন্টের মাধ্যমে। তিনি বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান যে তিনি ফারহানের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে চান। পরে বিষয়টি নিয়ে বাফুফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে ভার্চুয়াল বৈঠকে ফারহান, রায়হান, তাদের পরিবার এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় দুই ভাইয়ের পরিবার বাংলাদেশের হয়ে খেলার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানায়। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কাজও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
বাফুফের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব প্রক্রিয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডো কিংবা নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ফারহানকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।








