পারিশ্রমিক নিয়ে সৃষ্ট হওয়া জটিলতায় অনুশীলন বয়কট, বিদেশি ক্রিকেটারের বিসিবিতে অভিযোগ, দেশি এক ক্রিকেটারকে টাকা না দেয়ার কথা স্বীকার করাসহ এ সংক্রান্ত নানা সমস্যায় জর্জরিত এবারের বিপিএল। তবে এসব জটিলতা সমাধানে ৪৮ ঘণ্টা সময় নিয়েছে বিসিবি।
মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে বিপিএলের পারিশ্রমিক সমস্যা এখন আলোচনার তুঙ্গে। শনিবার বিসিবির ১৭তম বোর্ড সভায় এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না মিললেও আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ সব পক্ষকে নিয়ে বসার কথা জানিয়েছে বিসিবি।
প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে হওয়া সভা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবির দুই বোর্ড পরিচালক মাহবুবুল আনাম ও ইফতেখার রহমান মিঠু। সেখানে আশার কথা শোনান ইফতেখার রহমান। বলেছেন, ‘আমরা সম্প্রতি দেখছি, কিছু দলের ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক, অন্যান্য আনুষঙ্গিক সমস্যা হচ্ছে। এটা আমলে নিয়েছি। আজকে এরই মধ্যে এটা নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছি। বিপিএলের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম ও বিসিবির সম্মান জড়িত। তাই এটা গুরুত্ব দিয়ে দেখব। ক্রিকেটারদের ইয়ে হওয়ার কিছু নেই, আমরা (বিসিবি) এটা দেখব।’
পরে মাহবুব আনাম জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। বলেছেন, ‘এই ব্যাপারে তাৎক্ষণিক যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার… বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের মধ্যে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে নিয়েই নেয়া হবে। যেন এটা স্বচ্ছ থাকে। আমার মনে হয়েছে, বেশ কিছু দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেগুলো দূর করব এবং ক্রিকেটারদের সম্পূর্ণভাবে আশ্বস্ত রাখা দরকার। বিপিএলের পারিশ্রমিকের চুক্তিগত নিয়ম আছে তা মেনে চলা হবে।’
বিপিএলের পারিশ্রমিকের নীতিমালা অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ৫০ শতাংশ অর্থ পেয়ে যাওয়ার কথা ক্রিকেটারদের। খেলা চলাকালীন আরও ২৫ শতাংশ এবং টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাকি ২৫ শতাংশ পরিশোধ করার কথা। কিন্তু কোনো দলই সেটি মানে না। এমনকি টুর্নামেন্ট প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসার পরও কোনো অর্থ না পাওয়ার অভিযোগও আছে অনেক ক্রিকেটারের। যা সরাসরি বিসিবির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজির চুক্তির লঙ্গন। কিন্তু এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তি বা পদক্ষেপ নেয়নি বোর্ড।
তবে ফের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন মাহবুব। বলেছেন, ‘চুক্তির নিয়ম ভঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে যে পত্র দেওয়া দরকার, সেগুলো এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে। চুক্তির নিয়মগুলো তারা যেন মেনে চলে, সেটা নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার, আমরা সেগুলোই করছি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই কার্যক্রমগুলো চলমান থাকবে।’







