বিপিএলের প্লে-অফে প্রথম কোয়ালিফায়ারে শামীম হোসেন পাটোয়ারীর অনবদ্য ইনিংসে লড়াকু সংগ্রহ গড়েছিল চিটাগং কিংস। তাওহীদ হৃদয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে বন্দরনগরীর দলটির বিপক্ষে ৯ উইকেটে জিতেছে ফরচুন বরিশাল। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পৌঁছেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি।
আসরজুড়ে রানে ছিলেন না তাওহীদ হৃদয়। প্লে-অফে এসে রানে ফিরলেন জাতীয় দলের তারকা ব্যাটার। চারটি চার ও এক ছক্কায় ৪৫ বলে ফিফটি করেছেন। ইনিংস শেষ করেছেন ৫৬ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থেকে। ছিল ৯টি চার ও দুটি ছক্কার মার। আসরে হৃদয়ের প্রথম ফিফটি এটি।
মিরপুরে টসে জিতে চিটাগংকে আগে ব্যাটে পাঠান বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১৪৯ রান করে চিটাগং। জবাবে নেমে ১৭.২ ওভারে জয়ের বন্দরে নোঙর করেছে বরিশাল।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শিরোপামঞ্চে লড়বে তামিম ইকবালের দল। অন্যদিকে চিটাগং কিংস হারলেও বিপিএল যাত্রা শেষ হয়নি। ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে খেলবে তারা। ম্যাচে জয়ী দলটি খেলবে ফাইনালে বরিশালের বিপক্ষে। এলিমিনেটরে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে ফাইনালের দৌড়ে টিকে আছে খুলনা।
রানতাড়ায় নেমে ভালো শুরু পায় বরিশাল। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫৫ রান। ২৬ বলে ২৯ রানে তামিম ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। পরে ডেভিড মালানকে নিয়ে অপ্রতিরোধ্য ৯৫ রানের জুটি গড়ে জয় নিশ্চিত করেন হৃদয়। ২২ বলে ৩৪ রান করেন মালান। হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ৫৬ বলে ৮২ রান।
চিটাগংয়ের হয়ে একমাত্র উইকেটটি শিকার করেন খালেদ আহমেদ।
এর আগে ব্যাটারদের বিবর্ণতা দেখেছে চিটাগং কিংস। কেবল ভিন্ন ছিলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ব্যাট হাতে একাই টেনে নেন ইনিংস। তবে ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ আলির চার শিকারে ১৪৯ রানে থামে চিটাগং। প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলতে নেমে অভিষেকে ৫ উইকেট নেন মোহাম্মদ আলি। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ মিথুনকে ফিরিয়ে উইকেট যাত্রা শুরু হয় পাকিস্তান পেসারের। ১৯তম ওভারে, নিজের শেষ ওভার করতে আসেন ৩২ বর্ষী পেসার। তুলে নেন ৪ উইকেট। ফেরান খালেদ আহমেদ, শামীম হোসেন, আরাফাত সানি ও আলিস আল ইসলামকে।
বরিশাল বোলারদের তোপে চিটাগংয়ের ব্যাটাররা ভুগেছেন। কেবল দুজন দুঅঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। শামীম হোসেন পাটোয়ারী ২৯ বলে ফিফটি করে থামেন ৪৭ বলে ৭৯ রানে। নান্দনিক ইনিংসটিতে ছিল নয়টি চার ও চারটি ছক্কার মার। পারভেজ হোসেন ইমন তিনটি চার ও দুই ছক্কায় ৩৬ বলে ৩৬ রান করেন। বাকিদের কেউ ৭ রানের বেশি করতে পারেননি। ৭ বলে ৭ রান করেন হায়দার আলি।
মোহাম্মদ আলির ফাইফারের পাশাপাশি দুটি উইকেট নেন কাইল মেয়ার্স। ইবাদত হোসেন ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন।








