প্রায় সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার ৫ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, গত সোমবার (১৩ জুলাই) টেক্সাসের লারেডোর ফেডারেল আদালতে মামুনকে প্রাথমিক শুনানির জন্য হাজির করা হয়। এর আগে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৮ জুলাই ব্রাজিল সরকার প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইফুল্লাহ আল-মামুন বাংলাদেশিদের ব্রাজিল ও মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্য থেকে এফবিআইয়ের অনুরোধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে নেওয়া ব্যক্তিদের প্রথমে ব্রাজিলের সাও পাওলোর একটি ক্যাম্পে রাখা হতো। পরে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ হয়ে তাদের মেক্সিকোর তাপাচুলার একটি ক্যাম্পে নেওয়া হতো। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী মন্টেরিতে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য রিও গ্রান্ডে নদী সাঁতরে পার হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতো।
এই একই পাচারচক্রের সদস্য মুখতার হোসেন ও মিলন হোসেনকে আগেই গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা দোষ স্বীকার করায় টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালত তাদের প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেন।
তদন্তকারীরা জানান, মেক্সিকোতে মুখতার ও মিলন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুল্লাহ আল-মামুনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে সাও পাওলো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানবপাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১৪ জন বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড পেয়েছেন এবং ৩৬০ জন দীর্ঘমেয়াদি সাজা ভোগ করছেন।
বিচার বিভাগ জানায়, আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ) নেতৃত্ব দিচ্ছে। মেক্সিকো সীমান্তে আটক হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করা অনেক বাংলাদেশির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই পাচারচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নেটওয়ার্কের আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের ঢাকা, নোয়াখালী ও সিলেটে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।









