ক্রিকেট

হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, তৃতীয় দিন শেষে ২৩ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, তৃতীয় দিন শেষে ২৩ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

ধ্বংসযজ্ঞ থেকেই বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন তাওহীদ হৃদয়। টপঅর্ডার ও মিডলঅর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ধুঁকছিল টিম টাইগার্স। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট, আর সেখান থেকেই মহাকাব্য রচনা করেছেন হৃদয়। তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে সঙ্গী করে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে পরিণত করেছেন ডাবলে। এরপর বাংলাদেশকেও এনে দিয়েছেন লিড। হৃদয়ের হৃদয় নিংড়ানো ব্যাটিংয়ের দিনে ক্যারিবীয়দের সামনে ৩০ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।

সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পেয়ছিলেন সাদমান ইসলাম। পাঁয়ের গোড়ালির চোটে ব্যাটে নামতে পারেননি। তাতে ৯ উইকেটেই থেমেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ১১২তম ওভারের পঞ্চম বলে জেইডেন সিলেসের শর্ট ডেলিভারি উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফাইনলেগে ধরা পড়েন জশুয়া বিশপের হাতে। এরপরই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। হৃদয় অপরাজিত থাকেন ২৪২ রানে। ৩৫৯ বলের মহাকাব্যিক ইনিংসটিতে ছিল ২২টি চার ও ১১ ছক্কার মার।

টেস্টে বাংলাদেশি ব্যাটারদের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড এখন হৃদয়ের। আগের রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের ২১৯*। চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে করেছেন ডাবল সেঞ্চুরি, আর সেঞ্চুরির হিসেবে ষষ্ঠ। যার মধ্যে মুশফিকুর রহিমের ৩টি এবং তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান একবার করে পৌঁছেছেন দ্বিশতকে।

১১টি ছক্কা মেরে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এক ইংনিসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও তার দখলে। আগের রেকর্ডটি তামিম ইকবালের। ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরির দিনে ৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১০৬.৪ ওভার ব্যাট করে ৩৫৬ রানে প্রথম ইনিংসে থামে। জবাবে নেমে ১১১.৫ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৮৬ রানে থেমেছে বাংলাদেশ। ৩০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে নেমে ৪ ওভারে ৭ রান তুলেছে উইন্ডিজ। এখনও ২৩ রানে পিছিয়ে তারা।

৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮০ রান তৃতীয় দিন ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। হৃদয় ২৯ রানে এবং মুশফিক ১৯ রানে তৃতীয় দিনের লড়াই শুরু করেন। দলীয় ১২৪ রানে চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙে। মুশফিক আউট হন ৭৬ বলে ৩৪ রান করে। ১৩৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটন দাস আউট হন। ৭ বলে ৮ রান করেন।

১৭৯ রানে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩০ বলে ১৬ রান করেন। ১৮৪ রানে সপ্তম উইকেট হারায় স্বাগতিক দল। হাসান মাহমুদ আউট হন ১২ বলে ১ রান করে। হৃদয় তখন ব্যাট করেছিলেন ১৫৫ বলে ৮১ রানে।

বাংলাদেশ তখন পিছিয়ে ছিল ১৭২ রানে। এরপর মহাকাব্য রচনা করেন। অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে যোগ করেন ১৬৭ বলে ১১৭ রান। দলীয় ৩০১ রানে তাইজুল আউট হন। নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে যোগ করেন ১২১ বলে ৮৫ রান। ১১১.৫ ওভারে তাসকিন আউট হলে বাংলাদেশ থামে ৩৮৬ রানে।

এরআগে দ্বিতীয় দিন ৩৫৬ রান সামনে রেখে ব্যাটে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ওপেনার সাদমান ইসলাম ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়ায় ব্যাটে নামেননি। তানজিদ তামিমের সাথে ওপেন করেন আপদকালীন দায়িত্ব পাওয়া অফস্পিনার নাঈম হাসান। পঞ্চম ওভারে দলীয় ১৩ রানে নাঈম আউট হন। ৬ বলে ৫ রান করে। ২২ রানে আউট হন আরেক ওপেনার তানজিদ, ৩৩ বলে ১৬ রান করে।

তৃতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয় যোগ করেন ২৯ রান। ২২.৪ ওভারে শান্ত আউট হলে জুটি ভাঙে। ৬৫ বলে ১৮ রান করে যান অধিনায়ক। পরে হৃদয় ও মুশফিক অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটিতে দিনের খেলা শেষ করেন।

ক্যারিবীয়দের হয়ে প্রথম ইনিংসে জোমেল ওয়ারিক্যান ৪ উইকেট। জেইডেন সিলেস নেন দুটি উইকেট। শামার জোসেফ, রোস্টন চেজ ও জাস্টিন গ্রিভস নেন দুটি করে উইকেট।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সেঞ্চুরি করেন আমির জাঙ্গো। ২১২ বলে ১৩৩ রান করেন তিনি। ৬১ রান করেন কেভিন উইকহ্যাম। ৫১ রান করেন জাস্টিন গ্রিভস। জোমেল ওয়ারিক্যান ২৭ এবং জশুয়া বিশপ করেন ২৩ রান।

বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ ২৪ ওভারে ৯০ রানে ৬ উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ নেন দুটি করে উইকেট।

ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে পাঠিয়ে প্রথম ওভারেই দুটি রিভিউ নষ্ট করে বাংলাদেশ। ওভারের দ্বিতীয় বলে আম্পায়ার আউটের সাড়া না দিলে রিভিউ নেন শান্ত। স্ট্যাম্পের পাশ কাটিয়ে চলে যায় বল এবং পঞ্চম বলে আরও একবার রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। এবার ব্রেন্ডন কিংয়ের প্যাডে বল লাগার আগে বল ব্যাটে স্পর্শ করে। দুটি রিভিউ নষ্ট হয় বাংলাদেশের। পরে ব্রেন্ডন কিং ও জশুয়া ডি সিলভা দিনের খেলা শেষ করেন।

বিষয়:ওয়ারিক্যান ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ সিলেট টেস্ট হাসান হৃদয়

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…