অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়, সেটিও সাড়ে তিন দিনে, আবার ৯ উইকেট হাতে রেখে। এমন ঐতিহাসিক জয়ের পর কোন একজনকে কৃতিত্ব দিতে রাজি নন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার চোখে, ডারউইন টেস্টের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ আসলে পুরো বাংলাদেশ দলই।
শান্ত অবশ্য ভুলও নন। হাসান মাহমুদ প্রথম ইনিংসে ৬ ও পরের ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ফিফটি করার পর ৫ উইকেট নিয়েছেন। তানজিদ তামিম সেঞ্চুরি করেছেন। শান্ত, মুমিনুল হকও ভালো ব্যাট করেছেন। ভালো বল করেছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। দলীয় খেলায় আক্ষরিক অর্থেই দলের সবারই অবদান ছিল।
ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে শান্ত বলেনও সেটাই, ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ, সত্যি বলতে বাংলাদেশ দল। কারণ যদি দেখেন, যেটা উল্লেখ করলেন, সবাই কোন না কোন জায়গায় অবদান রেখেছে।’
টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ম্যাচে নেমে সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শতক করা প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে। তার শতক আলাদা করে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিনঅঙ্ক ছোঁয়া তামিমের জন্য বিশেষ মুহূর্ত বলেছেন, ‘আমার চোখে অবশ্যই তামিমের প্রথম ১০০, এটা অবশ্যই বিশেষ মুহূর্ত ওর জন্যে, মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতেছে।’
শুধু তামিম নয়, মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের প্রশংসাও করেছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে অজিদের প্রতিরোধ ভেঙেছেন মিরাজ। শান্ত বলেছেন, ‘মিরাজ এরকম পারফর্ম এরআগেও অনেক করেছে এবং এই কন্ডিশনে এসে ব্যাটিং এবং বোলিং যেভাবে করল, এটা অসাধারণ।’
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহের পেছনে লোয়ারঅর্ডার ব্যাটারদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রশংসা করেছেন তাদেরও। শান্ত বলেছেন, ‘যদি সবকিছু এক পাশে রেখে একটা জিনিস উল্লেখ করি, তাহলে বলব লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা যেভাবে ব্যাটিং করেছে— হাসান, তাইজুল, তাসকিন, এমনকি ইবাদত। ওই অবদানটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের জন্য, যেটা আমরা খুব বেশি করতে পারি না।’
দলগত পারফরম্যান্স নিয়ে শান্ত বলেছেন, ‘আমার মনে হয় খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি আমরা। অবশ্যই পাঁচদিন ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা ছিল এবং প্রত্যেকটা সেশন আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, এ ধরনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু যেভাবে আমরা প্রথমদিন থেকে আধিপত্য দেখিয়েছি, এটা অবশ্যই গর্বের একটা ব্যাপার। সবাই যেভাবে পরিশ্রম করেছে এবং যার যে ভূমিকা ছিল, সবাই যেভাবে ওটা পালন করেছে, ওটারই ফল আমরা পেয়েছি।’
এই জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় বলেছেন শান্ত। এমন জয় কীভাবে উদযাপন করা উচিত-সেটার উত্তরে শান্ত ছিলেন বেশ সরল। তার মতে, এমন মুহূর্ত প্রতিদিন আসে না, তাই উদযাপন করতেই হবে।
‘এরকম জয়ের পর অবশ্যই উদযাপন করা উচিত। এ ধরনের মুহূর্ত আমাদের ক্রিকেট জীবনে খুবই কম আসে। আমার মনে হয় পুরো দিনটা উদযাপন করা উচিত, খুব ভালোভাবে উদযাপন করা উচিত। ওটাই করার চেষ্টা করব।’










