চট্টগ্রাম থেকে: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয়টিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলায় তিন ম্যাচ সিরিজে ফলাফল ১-১। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে গড়াবে ভিন্ন কন্ডিশনে। চট্টগ্রামের আবহাওয়া ও উইকেট মিরপুরের ভিন্ন। টাইগারদের পেস বোলিং কোচ শন টেইট আশাবাদী সাগরিকার উইকেট নিয়ে। তপ্ত গরমে পেসারদের নিয়েও আত্মবিশ্বাসী তিনি। জানালেন, কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত পেসাররা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গড়াবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। ধারাভাষ্য শোনা যাবে রেডিও ভূমিতে। ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে উইকেট ও কন্ডিশন নিয়ে কথা বলেন সাবেক অজি পেসার। তার মতে, গত একবছরের অভিজ্ঞতায় চট্টগ্রামের উইকেটটি দুর্দান্ত।
‘বেশ শুকনো এবং এখানে-সেখানে কিছু প্যাঁচ (ছোপ) আছে। আমার মনে হচ্ছে এটা একটা ভালো উইকেট, কিন্তু এটি ঠিক কেমন আচরণ করবে তা বলা কঠিন। ঐতিহাসিকভাবে চট্টগ্রামের দিকে তাকালে দেখা যায় এটি ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো এবং কখনও কখনও বল কিছুটা নিছু থাকতে পারে।’
‘তবে উইকেটটা নিয়ে খুব বেশি আগাম মন্তব্য করতে চাই না। যেটা জানি, একটা ভালো জয় নিয়ে এখানে এসেছি এবং শেষ পর্যন্ত এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। আমাদের সামনে যা আসবে তা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সারফেস যেমনই হোক না কেন। পিচ বিশেষজ্ঞ নই, তবে এখানকার পুরো স্কয়ারটা দেখতে বেশ ভালো লাগছে। কিউরেটরের সাথে কথা বলে মনে হল বেশ আত্মবিশ্বাসী, কারণ ইদানীং এ উইকেটে খুব বেশি খেলা হয়নি। তাই তারা স্কয়ারটাকে সুন্দর করে তোলার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছে।’
মাঠের কন্ডিশন বা আউটফিল্ড নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই, জানালেন টেইট। বলেছেন , ‘না, ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এটা যেমন আছে তেমনই, ঠিক আছে। আমার মানে, সারফেসটা এমনই। উইকেট বা মাঠ নিয়ে আমার গভীর কোন মন্তব্য নেই। আমার কাছে এটা ঠিকই মনে হচ্ছে।’
ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে পেসারদের মানিয়ে নেয়ার সামর্থ্য নিয়ে কোচ আত্মবিশ্বাসী। বোলারদের উপর আস্থা রেখে অস্ট্রেলিয়ান কোচ বললেন, ‘আশা করি তারা পারবে এবং আমি এ ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী। জানি তারাও এ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। দেখেছি গত দুটি ম্যাচে তারা ভিন্ন ভিন্ন উইকেটে বেশ ভালো বল করেছে এবং ঢাকার ওই দুটি সারফেসের সাথে তারা খুব ভালো মানিয়ে নিয়েছে। তাই আসছে ম্যাচে তারা সেটা করতে পারবে না এমন কোন কারণ নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসলে এমনই। যেখানেই যান, অস্ট্রেলিয়া বা জিম্বাবুয়ে- সবকিছু কিছুটা আলাদা হবে। এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য। তরুণ ফাস্ট বোলারদের জন্য বিভিন্ন উইকেটে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা হওয়াই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।’
সবশেষে চট্টগ্রামের উইকেটকে গত একবছরের মধ্যে সেরা অভিহিত করে টেইট বলেছেন, ‘উইকেট একটু আলাদা মনে হচ্ছে। ভালো উইকেট মনে হচ্ছে। চট্টগ্রামে সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হয়, মাঝেমধ্যে নিচু থাকে। তবে গত ১২ মাসে চট্টগ্রামে যত উইকেট দেখেছি, তার মধ্যে এটি সেরা মনে হচ্ছে। দেখা যাক কেমন খেলে। একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশে উইকেটের আচরণ বোঝা সত্যিই কঠিন। বিশেষ করে মিরপুরে, কারণ দেখেছি প্রথম খেলা দ্বিতীয়টির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। হয়ত এটাই বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলার সৌন্দর্য।’








