ক্রিকেট বিশ্বে এখন আলোচিত বিষয় জনি বেয়ারস্টোর স্টাম্পিং হওয়ার ধরন। ক্যামেরন গ্রিনের বলে ১০ রান করে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন ইংলিশ উইকেটরক্ষক। চলতি অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টের শেষদিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ঘটনা। যা আলোচনার ঝড় তুলেছে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের মধ্যেও। দুজনে রীতিমতো কথার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
লর্ডস টেস্টের শেষদিনে ক্যামেরন গ্রিনের একটি বাউন্সার ডাক করেছিলেন বেয়ারস্টো। বল তার মাথার উপর দিয়ে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে জমা পড়ে। ডেলিভারির অ্যাকশনের সময় পার হয়েছে ভেবে ক্রিজের দাগের বাইরে চলে যান বেয়ারস্টো। ভেবেছিলেন বল ডেড হয়ে গেছে। সুযোগ সন্ধানী ক্যারি বল গ্লাভসে নিয়েই আন্ডারআর্ম থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দিয়ে আউটের আবেদন করেন। তৃতীয় আম্পায়ার মরিস এরাসমাস আউটের সংকেত দিলে ১০ রানে ফেরেন বিভ্রান্ত বেয়ারস্টো।
বিষয়টি যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না বেয়ারস্টোর। অন্যপ্রান্তে থাকা বেন স্টোকসও হতবাক। গ্যালারি থেকে উঠে যায় দুয়োর রোল। যা ঘিরে অ্যাশেজে ঐতিহ্যগত কথার লড়াই শুরু হয়েছে। এবার বিষয়টি যেন অতীতের সীমারেখাই অতিক্রম করে ফেলছে। কথা চালাচালিতে জড়িয়ে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
ইংল্যান্ডের অভিযোগ, ক্রীড়াসুলভ আচরণ না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মুখপাত্রের মাধ্যমে সেটির নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেটভক্ত সুনাক শনিবার লর্ডসের প্যাভিলিয়নে বসে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচটি দেখেছেন।
সুনাকের মুখপাত্র পরে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেন স্টোকসের সঙ্গে এ ব্যাপারে একমত যে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতারণার মাধ্যমে খেলায় জিততে চান না।’ স্টোকসও বলেছেন একইরকম কথা ম্যাচ শেষে যে, তিনি এভাবে জিততে চাইতেন না।

ঋষি সুনাকের কথার পাল্টা জবাব দিয়েছেন অজি প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ আলবানিজ জানান, অস্ট্রেলিয়ার ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেট দল নিয়ে তিনি গর্বিত। দল দুটি অ্যাশেজের প্রথম দুই টেস্টেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছে। শেষে বলেছেন, ‘অজিরা সবসময় জিততে পছন্দ করে। আমি বিজয়ীদের স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছি।’
১৯৩২-৩৩ মৌসুমে অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের কুখ্যাত বডিলাইন কৌশল অবলম্বন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি পর্যন্ত হয়েছিল। সুনাক অবশ্য বেয়ারস্টোর স্টাম্পিং ইস্যুকে কূটনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন না বলেই তার মুখপাত্র জানিয়েছেন।
এদিকে, বেয়ারস্টোর ঘটনার জেরে লর্ডসের লং-রুমে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) সদস্যদের কাছ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা বাজে মন্তব্যের শিকার হন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনজনের এমসিসির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। সুনাক ক্রিকেটারদের প্রতি বাজে মন্তব্যের জন্য নিন্দা জানিয়েছেন।








