এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, তাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে। সেজন্য গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
এরপরই সব মিলিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো, তার সংসদ সদস্য পদের কী হবে?
গাজী নজরুলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এর ফলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে বলে জামায়াতের একাধিক সূত্র চ্যানেল আইকে নিশ্চিত করেছে। সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে ওই আসনে উপনির্বাচন দিতে পারে নির্বাচন কমিশন।
তবে জাতীয় সংসদের চিফ হুইফ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার করা হলে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না। তবে পদত্যাগ করলে সাতক্ষীরা-৪ আসন শূন্য হবে।
উল্লেখ্য, একজন তরুণীর সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়।
ভিডিওগুলো সোমবার বিকেল থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করলে প্রথম দিকে ফেসবুকে তার সমর্থনে কেউ কেউ এটি ‘এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে’ উল্লেখ করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করেন। পরদিন কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে ভিডিও এআই দিয়ে বানানো নয়।
এসব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাকে তিনি তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। যদিও তার এই কথিত দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ কাবিননামায় নাম থাকা কাজী একটি দৈনিক পত্রিকাকে বলেছেন, বিয়ে কোথায় হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কাবিননামাটি পুরোনো তারিখ বসিয়ে তৈরি করেছেন।







