রাজনীতি

আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে নয়, চাইলে ভারতে রাজনীতি করতে পারে: আবু হানিফ

আওয়ামী লীগ নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তা ও অতিথিরা উপস্থিত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

আওয়ামী লীগ নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তা বক্তব্য দিচ্ছেন, অতিথিরা উপস্থিত।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মী পালিয়ে ভারতে অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেছেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে নয়, তারা চাইলে ভারতে রাজনীতি করতে পারে। কারণ তারা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে তাদের আর রাজনীতি করার কোন অধিকার নাই।

শনিবার (২২ মার্চ) গণঅধিকার পরিষদ গোপালগঞ্জ জেলার উদ্যোগে জেলা শহরে একটি রেস্টুরেন্টে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইফতারপূর্বে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সকল রাজনৈতিক দল যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেই ঐক্য এখন আর নাই। নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মিলাতে গিয়ে বিভক্ত হয়ে গেছি আমরা। আমাদের এই বিভক্তি চলমান থাকলে পরাজিত শক্তিকে সেই সুযোগ নিতে পারে। যেকোন মূল্যে আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। জুলাই আগস্টের আন্দোলনের সময়ের সেই ঐক্য ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে সবার মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে। বাংলাদেশের যেকোন সংকটে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সেনাবাহিনী মানুষের পক্ষে ছিল। সেনাবাহিনীর দুয়েকজন ভিন্ন ভূমিকা নিতে পারে কিন্তু সামগ্রিকভাবে সেনাবাহিনী জনগণের পক্ষে ছিল।

আবু হানিফ বলেন, বর্তমানে একটা গোষ্ঠী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে জনগণের বিপক্ষে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এটা ভয়ংকর ফাঁদ, এই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। দেশকে নিয়ে পাশের দেশ থেকে গুজব ছড়াচ্ছে, তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। বাংলাদেশকে নিয়ে দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্র অব্যাহত, দেশপ্রেমিক সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অনেকেই নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ চলে আসবে, তাদের বলবো আপনারা দিবাস্বপ্ন দেখছেন, সেই স্বপ্ন কোন দিন পূরণ হবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা থাকলে তারা দেশ থেকে পালাতো না। আওয়ামী লীগ ক্লিনিক্যালি ডেড, জীবিত হওয়ার সুযোগ নাই। সুতরাং আওয়ামী লীগ আর ফিরতে পারবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছিল তার বিচার হবে, তারপর দেখা যাবে আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট কি থাকে।

কিছু দিন জাতিসংঘের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, তারা মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। সেই অপরাধের বিচারের সুপারিশ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এই অপরাধ অপরাধী তাদের বিচার হবে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হতে হবে। গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদ, গোপালগঞ্জ জেলার সভাপতি আল আমিন সরদার। সঞ্চালনা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শেখ।

এতে বক্তব্য রাখেন, গণঅধিকার পরিষদ গোপালগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাআদ শিকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গোপালগঞ্জ জেলার সভাপতি তসলিম হোসাইন শিকদার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের জেলা সেক্রেটারি আল আসুদ খান, যুবদল দলের গোপালগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান পলাশ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি জসিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম, কাশিয়ানী উপজেলার সদস্য সচিব ডা. আহমেদ আলীপ্রমুখ।

বিষয়:আওয়ামী লীগ আবু হানিফ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…