চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আলো আঁধারের খেলা: সন্তানের বুক থেকে বাবা হারিয়ে যান না

পাবার আনন্দে উদ্বেল মন হারানোর বেদনায় বিষণ্ণ ২৭ আগস্ট সকাল দশটা থেকে শুরু হলো মাইকিং এবং বাবার ছবি, তথ্যসহ লিফলেট বিতরণ। পাশাপাশি চলছে খোঁজাখুঁজি। দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে একটা ফোন পেলাম। লোকটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফুটপাতের দোকানদার। তিনি জানালেন, বাবাকে নাকি গতরাত আটটার দিকে দেখা গেছে তার দোকানের সামনে। একটা পাউরুটি খেতে দিয়েছেন। টিপটিপ বৃষ্টি পড়ার কারণে তিনি পাকা বাজারের একটা দোকানের নিচে রেখে এসেছেন। আমরা অনেকটা নিশ্চিত যে বাবা আশপাশেই আছেন। প্রয়োজন শুধু তন্নতন্ন করে খোঁজা। সবাই মিলে খোঁজা…

বাড়ি পোড়ে, মন পোড়ে না?

এ দেশ আমার। আমার বাবার। আমার ঠাকুরদার। এ দেশে আমি জন্মেছি। আমার বাবা জন্মেছে এ দেশে। আমার ঠাকুরদার জন্মও এই সবুজে নিকানো বাংলার কোলে। তার বাবা... ঠাকুরদা... সবাই। এ দেশ পেয়েছি আমি বংশপরম্পরায়। এখানকার প্রতিটি ধূলিকণা আমার চেনা, আঁকাবাঁকা পায়ে চলা মেঠোপথ আমার চেনা। স্নান করার ঘাট আমার চেনা। বাজার চেনা। পথের ধারের আম, কাঁঠাল, নারকেল, সুপারি, কদম, কামিনী, তুলসী, শিউলি, বেলি সবই আমার চেনা। সকাল-সন্ধ্যার পাখির গান আমার চেনা। আমার বাড়ির খাট, বিছানা, মা, বোন, ভাই, বাবা, রান্নাঘর, বালিশ, বাথরুম, যত্নে বসানো সরস্বতী, শিতলা,…

আলো আঁধারের খেলা: বাবার খোঁজে পথে পথে

২৬ আগস্ট। সকাল আটটা। বাবাকে খুঁজতে যাওয়া জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি আমি, বিকাশ আর সঞ্জয়। ফোন বেজে উঠলো। টাঙ্গাইল থানার এসআই। বললেন, ঘাটাইলে আপনার বাবাকে পাওয়া গেছে। আপনি যত তাড়াতাড়ি পারেন একটা এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চলে আসুন। লাইনটা কেটে গেল। বাবাকে পাওয়া গেছে- খুশির খবর। কিন্তু এ্যাম্বুলেন্স কেন! আমি কল ব্যাক করলাম। তিনি দ্বিধা নিয়ে জানালেন, দেখুন, আপনি উনার ছেলে, আপন জন। আপনাকে শক্ত হতে হবে। আপনার বাবা বাস থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটা পিকাপের সামনে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এই…

আলো-আঁধারের খেলা: বাবার খোঁজে পথে পথে

২৫ আগস্টের সকাল। চারপাশে কি ভূমিকম্প হচ্ছে! বেডরুমের একটা ছবির দিকে তাকালাম। না, ছবিটা দুলছে না। আমি কাঁপছি। মার ফোন পেয়ে আমার সারা শরীর কাঁপছে। চোখ বন্ধ করলাম। লম্বা একটা শ্বাস নিলাম। নিজেকে স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। মনকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম, বিপদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমার শক্ত থাকতে হবে। বাবা-মার একমাত্র সন্তান আমি। এই মুহূর্তে আমাকে দিশেহারা হলে চলবে না। আমি প্যান্ট পরে গেঞ্জিটা গায়ে দিয়ে বেরোনোর সময় মেয়েদের ঘুম থেকে জাগিয়ে গিন্নিকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে আসতে বললাম। রিকশায় যেতে যেতে কয়েকজন পরিচিতকে ফোন করলাম। সকালবেলা,…

আলো-আঁধারের খেলা

২৩ আগস্ট। রাত সাড়ে ৮টা। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল। কার্ডিওলজি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ গোবিন্দ্র চন্দ্র রায়ের চিকিৎসাধীন ১ নং ওয়ার্ডের ৭৪ নাম্বার বেডে (মেডিসিন ইউনিট-৫) বসে আছেন বাবা। কর্মসূত্রে আমি ঢাকায় থাকি। গিন্নি রান্নাবান্না করে দিয়েছেন বাবা-মার জন্য। হটপট খুলে মা খাবার দিতে ব্যস্ত। প্রথমে একটা খবরের কাগজের ওপর খাবারের থালা রাখলেন। তারপর এক এক করে ভাত, ভাজি, ইলিশ মাছের ঝোল দিলেন। চকচক করে উঠল বাবার চোখ। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণে অনেক কিছু ভুলে গেলেও ইলিশ মাছের কথা ভুলতে পারেননি তিনি, স্মৃতি…

শ্রীবাসদের বেঁচে থাকার গল্প

ওর নাম শ্রীবাস। বাবা ভক্তদাস গত হয়েছেন অনেক আগেই। কয়েক বছর হলো মা রেখা রাণীও চলে গেছেন। রেখে গেছেন তিন ছেলে, দুই মেয়ে। মেয়ে ভারতি আর তপতির বিয়ে হয়ে গেছে। তিন ভাইয়ের মেঝো ভাই প্রভাস প্রসাধনী সামগ্রির দোকানের বেতনভুক্ত কর্মচারী। বড় আর ছোট ভাই ভবেশ ও শ্রীবাস মধুমতি নদীতে মাছ ধরে। বিয়ে করেছে। ছেলেমেয়ে আছে। মাছ ধরার টাকা দিয়েই কষ্টেসিষ্টে চলে ওদের সংসার। না, চলে না, চালিয়ে নেয় ওরা। শ্রীবাসদের জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছি। দেখেছি ওদের দুঃখগাথার বাস্তব চিত্র। আমিও জেলে পরিবারের সন্তান। আমার বাস্তুভিটাও জেলেপাড়ায়। সভ্যতার বিকাশ হয়।…