নারদ হালদার। জেলে পরিবারের সন্তান। নারদ ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। প্রতি ক্লাসে এক থেকে তিনের ভেতর রোল থেকেছে। ফাইভ পর্যন্ত বিদ্যে আছে পেটে। পড়তে পারেনি টাকার অভাবে। একদিন ঢাকা চলে আছে নারদ। বড় কিছু করার জন্য। পেট ভরে খাওয়ার জন্য। কিন্তু বাস্তবতার আগুনে পুড়েকয়লা হয় দেহ-মন।
প্রচণ্ড পরিশ্রম আর দিনের পর দিন উপোষ থাকায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। টিবিতে আক্রান্ত হয় ও। মনের জোর আর বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতায় একসময় ভালো হয়ে ওঠে। কিন্তু শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা থেকেই যায়। আবার টাকা রোজগারের চিন্তা। অক্লান্ত পরিশ্রম। দিনের পর দিন উপোষ। আবার শরীরবিদ্রোহ করে। প্রচণ্ড অসুস্থতার পর ডাক্তাররা ওর রোগ নির্ণয় করেন Post Tuberculosis B/L Lung Bronchietasis (Damaged more than 50% B/L Lung)।
চলতে থাকে চিকিৎসা। বন্ধু-বান্ধবদের সহযোগিতা আর ধার-দেনা করেও রোগ থেকে মুক্তি মেলেনা। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল অনেক চেষ্টা করেও রোগ মুক্তির বার্তা ওকে শোনাতে পারেনি। ফুসফুসের ৫০% নষ্ট। শারীরিক সক্ষমতা অপ্রতুল। ধুকে ধুকে মরা ছাড়া বাংলাদেশে ওর কোনো চিকিৎসা নেই।
৩৮ বছরের নারদ এখন রাজবাড়ি জেলার রতনদিয়ার জেলে পল্লীতে থাকে। ছেলেটার শরীরে আজ হাড় ছাড়া কিছুই নেই। মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ও জানে, সামনে ওর নিশ্চিত মৃত্যু। তবু বাঁচার স্বপ্ন ওর চোখে-মুখে। ও এখন একটি মুহূর্তও অক্সিজেন ছাড়া থাকতে পারে না। চলতে পারে না। বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পারে না। কথা বলতে প্রচন্ড কষ্ট হয়। ঠান্ডা-গরমে সমস্যা হয়। কাশি দিলে গলগল করে রক্ত পড়ে। রক্ত বন্ধ করতে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকতে হয় ১০/১৫ দিন। নির্দিষ্ট ওষুধের সঙ্গে চলে কড়া এন্টিবায়োটিক।
মানুষ বাঁচতে চায়। নারদেরও। তাই বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে যোগাযোগ করতে থাকে ভারতে বিভিন্ন হাসপাতালে। একসময় সাড়া দেয় চেন্নাইয়ের এপোলো হাসপাতাল। আশ্বাস দেন তারা রোগ মুক্তির। বেঁচে থাকার মূল্য নির্ধারণ করেন সাড়ে ২৬ লাখ রুপি। মেজর দুটো অপারেশন। একজনকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া, ওখানে থাকা-খাওয়া, পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা…। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ৩২ থেকে ৩৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। যে নিঃস্ব পরিবারের ৩৫ হাজার টাকা নেই সেই পরিবারটি কী করে ৩৫ লাখ টাকা জোগাড় করবে?
নারদের বেঁচে থাকার ইচ্ছে প্রবল। ওর পরিবারের এতো টাকা খরচ করার সামর্থ্য নেই। কিন্তু আমাদের আছে। বাংলাদেশের আছে। আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি পদ্মা সেতুর মতো সেতুও আমরা নিজেদের টাকায় করতে পারি। আমরা নারদকেও বাঁচাতে পারব। নারদের চিকিৎসায় কোটি টাকার প্রয়োজন নেই। শুধু ৩৫ লাখ টাকা দরকার। আমরা পারি নারদকে বাঁচিয়ে রাখতে। আমরা পারি নারদের স্বপ্নকে সফল করতে। মাত্র ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আসুন আমরা মায়ের কোলে সন্তানকে ফিরিয়ে দেই, দাদার কাছে ফিরিয়ে দেই ভাইকে, বোনের কাছে তার দাদাকে। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে!
নারদের পাশে আমরা দাঁড়াব। বাংলাদেশ দাঁড়াবে। মানবতার জয় হবেই।
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:
নারদ হালদার
সোনালি ব্যাংক, কালুখালী শাখা এসি নম্বর: ২২১৩৭০১০১২৩৮২
ডাচ-বাংলা ব্যাংক, কালুখালী শাখা এসি নম্বর: ৭০১৭৩১৭৭৪৯৬৩২
নগদ, বিকাশ, রকেট নম্বর: ০১৯৫৩১৩৭৩৩১
নগদ, বিকাশ, রকেট নম্বর: ০১৯৮৫৬৪৮৬১৪







