এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে সঠিক সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিগত সরকারের আমলে কমপক্ষে ৫০০ জন সাংবাদিক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হননি।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠুর সঞ্চালনায় এবং সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, প্রবীণ সাংবাদিক ফজলে ইমাম বুলবুল, হারুন উর রশিদ, জয়নাল আবেদীন বাবুল, আপেল মাহমুদ, মোবারক হোসেন ও মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা। এর চেয়ে সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা আর আছে বলে আমার জানা নেই। সমাজ ও রাষ্ট্রের সত্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই আজ মুক্ত সাংবাদিকতা হুমকির মুখে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে অনেক সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আর বাংলাদেশে বাস্তবতা আরও কঠিন। এখানে সত্য সংবাদ প্রকাশের পর তা যদি কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বার্থে আঘাত হানে, তবেই ওই সাংবাদিকের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও জুলুম।
উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের সাংবাদিকতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে এমন অনেক কিংবদন্তি সাংবাদিক ছিলেন, যারা লেখনীর পাশাপাশি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের বড় বড় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
সাংবাদিকদের নিজেদের ভেতরের সব বিভেদ ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি থাকলে শোষকদের সুবিধা হয়। নিজেদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। এখানে মুহূর্তের মধ্যেই একজন রাজনীতিক বা যেকোনো ব্যক্তির চরিত্রহনন করা সম্ভব হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, অপসাংবাদিকতা একটি রাষ্ট্রকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার একটি ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। দেশের সার্বিক সংস্কার ও সার্বজনীন উন্নয়নকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
এর আগে, বিএনপি মহাসচিব ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা উদ্বোধন করেন।








