মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আজ সোমবার ১২ মে প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
সকাল ১০ টায় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে বেলা ১২ টায় শেষ হয়। আগামীকাল পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন বিজ্ঞ বিচারক।
কার্যক্রমের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলার বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন। প্রথম দিন কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় আগামীকাল আবারও যুক্তিতর্ক উপস্থানের দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মকুল বলেন, আজ আছিয়া হত্যা মামলার যুক্তিতর্কের দিন ধার্য ছিল। বিজ্ঞ আদালতে সকালে এই কার্যক্রম শুরু হয়। আমরা ইতিমধ্যে রাপষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামীদের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। এই মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। মামলায় ৭টি জব্দ তালিকা ছিল। সাতটি জব্দ তালিকায় ১৬ জন সাক্ষী ছিল। যার মধ্যে ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে তাদের জব্দ তালিকাকে সত্যায়ন করেছেন। মামলায় তিনটি মেডিকেল সার্টিফিকেট ছিল। ৫ জন ডাক্তার মেডিকেল সাটিফিকেটে স্বাক্ষর করেছিলেন। ইতিমধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে মেডিকেল সাটিফিকেটকে সমর্থন করে তারা বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া মেডিকেল সাটিফিকেটে তারা তাদের স্বাক্ষর শনাক্ত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই মামলায় একটি সুরতহাল রির্পোট ছিল। সুরতহাল রির্পোট প্রস্তুতকারীগণ ইতিমধ্যে তাদের সাক্ষ্য বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করে তাদের স্বাক্ষরকে শনাক্ত করেছেন। এই মামলায় একটি ময়নাতদন্ত রির্পোট ছিল। যে রির্পোটিতে দুইজন ডাক্তার স্বাক্ষর করেছিলেন। এটি সমর্থন করে বক্তব্য দিয়ে তারা সেটি শনাক্ত করেছেন।
এই মামলায় রেকর্ডিং কর্মকর্তা, তদন্তকারী কর্মকর্তা, এই মামলার আসামী হিটু শেখের ১৬৪ ধারায় দেয়া জবাববন্দি বিজ্ঞ বিচারক রেকর্ড করে তা সমর্থন করেছেন। মামলার ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে আসামী হিটু শেখের বিরুদ্ধে ২০০০ সালে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধিত আইন ২০০৩ এর ৯ এর ২ ধারাকে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
আসামী সজিব ও রাতুল সাক্ষী হামিদাকে ঘটনার তথ্য কারও কাছে ফাঁস করলে খুন, জখমের হুমুকি প্রদান করেছে এ সাক্ষ্য প্রমাণিত হয়েছে। এই মামলার অপর আসামী জাহেদা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। তিনি এ বিষয়ে একটি নাটক সাজিয়ে আছিয়াকে জিনে ধরেছে, তাকে হুজুরের কাছে নিতে হবে, তেল পানি পড়া দিতে হবে জানিয়ে হুজুরের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি হুজুরকে তেল পানি পড়া দিতে অনুরোধ করেছিলেন । সেটি বুমেরাং হয়েছে।
এক্ষেত্রে দেলোয়ার হুজুর তাকে বলেছেন, এটা ওই ধরনের কোন বিষয় নয়। আপনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। আসামী জাহেদা এই মামলার তথ্য গোপন করে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার অপরাধকে সংগঠন করেছে। পাশাপাশি সেই সংগঠিত অপরাধ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য শেষে আমরা দাবি রেখেছি, এই মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি, সাক্ষীদের জেরা, আসামীপক্ষ কোনভাবে টলাতে পারেনি। ঘটনা থেকে তাদের মানসিকতাকে বিচ্যুত করতে পরেনি।
মনিরুল ইসলাম মকুল বলেন, আমরা এই মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি বিধায় আমরা হিটু শেখকে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যানত দমন আইন সংশোধিত ২০০৩ এর ৯ এর ২ ধারার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছি। আসামী সজিব ও রাতুলের বিরুদ্ধে ৫০৬ এর দ্বিতীয় অংশের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ সাজা বিজ্ঞ আদালতে আমরা প্রার্থনা করেছি।








