কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যক্তিগত পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও এর সুফল সামগ্রিক ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত করতে পারছে না বলে এক গবেষণায় জানা গেছে।
রোববার (৩ মে) প্রকাশিত হানা ইনস্টিটিউট অফ ফিনান্সের গবেষণায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান এআই উৎপাদনশীলতা বৈপরীত্যের মুখোমুখি যেখানে ব্যক্তিগত দক্ষতা বাড়লেও তা প্রতিষ্ঠানজুড়ে কার্যকর ফল দিচ্ছে না।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রোগ্রামিং, আইনি সেবা ও বিপণনের মতো খাতে এআই ইতিমধ্যেই কাজের গতি ও মান উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে মানব দক্ষতার সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় উৎপাদনশীলতায় দৃশ্যমান উন্নতি আনছে। এছাড়া, এআইয়ের উন্নত রূপ ‘এজেন্টভিত্তিক এআই’ এখন শুধু তথ্য তৈরি বা ছবি বানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জটিল কাজ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নেও সক্ষম হচ্ছে।
এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এআইয়ের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এআই বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদন ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। তবে বিপুল বিনিয়োগের পরও অনেক প্রতিষ্ঠান রাজস্ব বৃদ্ধি, আর্থিক পারফরম্যান্স বা শ্রম উৎপাদনশীলতায় প্রত্যাশিত উন্নতি দেখতে পাচ্ছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর প্রধান কারণ হলো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই গ্রহণ করলেও তাদের কাজের ধরণ, সাংগঠনিক কাঠামো বা কৌশলগত পরিকল্পনায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পমেয়াদি ও প্রদর্শনযোগ্য এআই ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বাস্তব কাজের সঙ্গে সঠিকভাবে সংযুক্ত নয়।
ফলে কর্মীরা এসব প্রযুক্তি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে শ্যাডো এআইয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে, যেখানে কর্মীরা অনুমোদন ছাড়াই বাইরের এআই টুল ব্যবহার করছেন, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, এআই ব্যবহারে সময় ও শ্রম সাশ্রয় হলেও সেই বাড়তি সক্ষমতাকে উচ্চমূল্যের কাজে ব্যবহার না করলে প্রতিষ্ঠানিক উৎপাদনশীলতা বাড়ে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআইয়ের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এটিকে শুধু সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে না দেখে, বরং মূল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। থাকতে হবে প্রতিষ্ঠানের এআই বিষয়ক পলিসি ও গাইডলাইন। এর জন্য প্রয়োজন কাজের ধরনে পরিবর্তন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে সক্রিয় উদ্যোগ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে খরচ বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এআইভিত্তিক রূপান্তরকে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি।








