আন্তর্জাতিক

মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে ফিরলেন প্রায় দেড় হাজার অভিবাসী

মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে ফিরলেন প্রায় দেড় হাজার অভিবাসী

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সতর্কতার মধ্যেই মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী ও অভিবাসী দেশে ফিরেছেন। মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো ১ হাজার ৪৭৯ জনকে নিয়ে দুটি নৌবাহিনীর জাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ মঙ্গলবার রওনা দেয়। রোববার সকালে তারা মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইয়াঙ্গুনে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সরকারের এক মন্ত্রী।

সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্য্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানায়।

মালয়েশিয়া থেকে ধাপে ধাপে মোট ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আরও ১০ হাজার ৩০০-এর বেশি মিয়ানমারের নাগরিক বর্তমানে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রে রয়েছেন।

মালয়েশিয়ার দাবি, দেশে ফেরত যাওয়া সবাই স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, শরণার্থীদের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতিও নিরাপদ নয় বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে তারা স্বেচ্ছায় ও যথেষ্ট তথ্য জেনে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা যাচাই করার সুযোগ সংস্থাটির কর্মীদের দেওয়া হয়নি।

মালয়েশিয়া আরও ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি শরণার্থী ও অভিবাসীকে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির সরকারের দাবি, এসব অভিবাসীর কারণে আর্থিক, সামাজিক ও নিরাপত্তার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয় মালয়েশিয়া। দেশটিতে শরণার্থীদের অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, দেশটিতে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।

মিয়ানমার সরকার গত মাসে জানিয়েছিল, দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ভাবে গ্রহণ করা হবে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ফোর্টিফাই রাইটসের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইয়াপ লে শেং বলেন, দেশে ফেরার পর তাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকার কী ধরনের আচরণ করবে, তা নিশ্চিত নয়।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাও চলছে।

ইউএনএইচসিআর ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, দেশে ফেরার পর এসব মানুষ নিপীড়ন ও জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির হিসাবে, সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে যুদ্ধে ১ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এদিকে মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইং, যিনি এপ্রিলে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন, শিগগিরই মালয়েশিয়া সফর করতে পারেন। সেখানে শরণার্থী ও অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মালয়েশিয়ায় থাকা মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বড় অংশই রোহিঙ্গা। তবে সম্প্রতি ফেরত পাঠানো ১ হাজার ৪৭৯ জনের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।

মালয়েশিয়ায় শরণার্থী সম্প্রদায়ের ওপর অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান জোরদারের মধ্যেই এই ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘটল। ২০২৬ সালে এসব অভিযানে ৫০ হাজারের বেশি শরণার্থীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাইয়ে এই প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দেন। সে সময় দেশটিতে শরণার্থীদের, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের, বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব বাড়ছিল।

বিষয়:ইউএনএইচসিআর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…