প্যাটেন্ট লঙ্ঘনের মামলায় অ্যাপলকে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত
অনুমতি ছাড়া উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বা পেটেন্ট ব্যবহারের অভিযোগে অ্যাপলকে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্যাকশন টেকনোলজির মালিকানাধীন হ্যাপটিক ফিডব্যাক প্রযুক্তির পেটেন্ট ব্যবহারের দায়ে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিটিতে মূলত নোটিফিকেশন এলে বা বোতাম চাপলে ব্যবহারকারীরা কম্পন অনুভব করেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে এই মামলার বিচার হয়। সেখানকার জুরিরা আইফোন নির্মাতাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। অ্যাপল সান দিয়েগো ভিত্তিক কোম্পানির দুটি পেটেন্ট লঙ্ঘন করেছে।
শুক্রবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ট্যাকশনের আইনজীবী ল্যান্স ইয়াং এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জুরিরা ট্যাকশনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এতে আমরা আনন্দিত। এর মাধ্যমে পেটেন্টের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো।
এই আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। ওই বছর ট্যাকশন প্রথম অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ২০২৩ সালে একজন ফেডারেল বিচারক অ্যাপলের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অ্যাপল ট্যাকশনের পেটেন্ট লঙ্ঘন করেনি। কিন্তু গত বছর আপিল আদালত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে। বর্তমান রায়টি সেই আইনি লড়াইয়েরই চূড়ান্ত পরিণতি।
মূল অভিযোগে ট্যাকশন ৩১ পৃষ্ঠার একটি বিবৃতি দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়, অ্যাপল ট্যাকশনের উদ্ভাবন কাজে লাগিয়ে মুনাফা লুটছে। তারা ট্যাকশনের পেটেন্ট লঙ্ঘন করা ডিভাইস বিক্রি করছে। অ্যাপলের কাছে ট্যাকশনের কোনো লাইসেন্স নেই। তাদের কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। তবুও তারা এই পেটেন্টযুক্ত উদ্ভাবন ব্যবহার করছে। অ্যাপলের এই লঙ্ঘনের প্রতিকার পেতেই ট্যাকশন ব্যবস্থা নিয়েছে।
কোম্পানিটি আরও একটি দাবি করেছিল। তারা বলেছিল, অ্যাপল অন্তত এতটুকু বিশ্বাস করত যে তাদের পণ্যে ট্যাকশনের পেটেন্ট থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। তারা অভিযুক্ত পণ্যগুলোর লঙ্ঘনকারী প্রকৃতির প্রতি অন্ধ ছিল।
তবে জুরিদের রায়ে ভিন্ন কথা বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, অ্যাপল ইচ্ছাকৃতভাবে পেটেন্ট লঙ্ঘন করেনি। অ্যাপল জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। অ্যাপল আরো জানিয়েছে, তাদের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশনের প্রযুক্তি থেকে মৌলিকভাবে আলাদা। মামলার শুনানির সময় অ্যাপলের পণ্য পরীক্ষা করেও ট্যাকশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে দাবি করেছে অ্যাপল।
অ্যাপলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের মধ্যেই এ রায় এলো। ১৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর সেপ্টেম্বরে টিম কুকের কাছ থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব নেন জন টার্নাস।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি বাজারে আনতে অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে অ্যাপল। রায়ের পর সোমবার শেয়ারবাজারে অ্যাপলের শেয়ারের দামও কমেছে। লেনদেন শুরুর দিকে কোম্পানিটির শেয়ারের দর প্রায় ২ শতাংশ কমে যায়।






