জুলাই-আগস্টে সংঘটিত নজিরবিহীন গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক দুই মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও কামরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ০৩/২০২৪ নম্বর মামলার পরোয়ানায় কামরুল ইসলাম এবং আমির হোসেন আমুকে বুধবার সকাল দশটা ২০ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে ট্র্যাইব্যুনালে আনা হয়। এরপর তাদের রাখা হয় ট্র্যাইব্যুনালের হাজত খানায়। সেখান থেকে এদের দুজনকে তোলা হয় বিচারপতি মো: গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্র্যাইব্যুনালের কাঠগড়ায়। একপর্যায়ে বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এদের বিরুদ্ধে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ পড়ে শুনান হয় এবং এই মামলায় এদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল আমির হোসেন আমু ও কামরুল ইসলামকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেয়া এবং আগামী ১৮ ডিসেম্বর আবার হাজির করতে বলা হয়।
ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করবেন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ ও গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম।
গত ৬ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে আমির হোসেন আমুকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম উত্তরায় গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেপ্তার হন গত ১৮ নভেম্বর।
গত ৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কয়েকশত অভিযোগ এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন অফিসে জমা পড়েছে। গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গনহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরইমধ্যে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ৯ মন্ত্রী, দুই উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতি ও সাবেক সচিবকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।







