বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে এখন পর্যন্ত অঘটন একটাই ঘটেছে। প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে শক্তিশালী জার্মানিকে। কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি এমন হবে। জার্মানি তো ভাবেইনি। কিন্তু প্যারাগুয়ে বড় এক আপসেটের জন্ম দেয়। বাদ বাকি ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে। ব্রাজিল, স্বাগতিক কানাডা, নরওয়ে, ফ্রান্স, মেক্সিকোর সামনে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
নরওয়ে ২-১ গোলে আইভরি কোস্ট, ফ্রান্স ৩-০ গোলে সুইডেন এবং মেক্সিকো ২-০ গোলে ইকুয়েডরের বিপক্ষে জিতে শেষ ষোলোতে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
দ্বতীয় রাউন্ডে টপফেভারিট দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড, স্পেন, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল কী ফলাফল করে সেটা এখন দেখার বিষয়। তবে মরক্কোর কাছে পেনাল্টি শুটে হেরে নেদারল্যান্ডস বিদায় নেওয়া ফুটবলের শুদ্ধ সমর্থকেরা দুঃখ পেয়েছেন। এটি সত্য, দ্বিতীয় পর্বেই মরক্কো এবং নেদারল্যান্ডস দেখা বা মুখোমুখি হওয়ার কারণে যেকোনো একটি দেশের বিদায় ছিল অনিবার্য। সেটাই হয়েছে। নেদারল্যান্ডস বিদায় নেওয়াতে পুরো দলই হতাশা প্রকাশ করেছে। অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক বলেছেন, ‘এভাবে একটি টুর্নামেন্ট শেষ করা খুবই কষ্টের।’ তাইতো, নেদারল্যান্ডসের আরও অনেককিছু দেওয়ার ছিল। কিন্তু দ্রুতই ছন্দপতনে তাদের হৃদয় না ভেঙে পারেনি।
এখন পর্যন্ত যতগুলো খেলা হয়েছে তাতে করে ফ্রান্সের ফুটবল শক্তিমত্তা আরো বেশি দৃশ্যায়িত হচ্ছে। রাউন্ড অব থার্টিটুতে ফ্রান্সের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সামনে সুইডেন দাঁড়াতেই পারেনি। ফ্রান্সের অধিনায়ক কাইলিয়ান এমবাপে এদিনও জোড়া গোল করে নিজের অদম্য সক্ষমতা তুলে ধরেছেন। এই বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোল এখন ৬। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাট্রিকসহ মোট ৮টি গোল করেছিলেন। তবে এবার তিনি আরও দুর্ধর্ষ, আরও বেপরোয়া, ক্ষ্যাপাটে এক নায়ক। ফ্রান্স এবার চ্যাম্পিয়ন হলে এমবাপের গোল সংখ্যা সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারে। সেই ধরনের ইঙ্গিত কিন্তু স্পষ্ট। ফাইনাল বাদ দিলে সামনে আরও তিন ম্যাচ। এই তিন ম্যাচে এমবাপে আরও অগ্নিমূর্তি ধারণ করতে পারেন। এমবাপেকে নিয়ে এখন অনেক ধরনের অনুমান করা সম্ভব। সে কথাই বলছিলেন সাবেক তারকা ফুটবলার জাকির হোসেন। মিডফিল্ডার জাকির ঢাকার মাঠে খেলেছেন পুরো নব্বই দশকজুড়ে। আবাহনীতে খেলেছেন লম্বা সময়। জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন প্রায় এক দশক। ২০০৩ সালে ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন।
জাকির বললেন, ‘ফ্রান্সের এমবাপে স্পিডস্টার। এক বিধ্বংসী ফুটবলার। এত গতিসম্পন্ন ফুটবলার বিরল। একটা দুইটা ম্যাচ নয়, প্রতিটি ম্যাচেই তার গতি দৃশ্যায়িত হয়। গোলে যে শট নেয়, সেখানেও অফুরন্ত গতি। চোখের পলকে তাই গোলকিপারকে চমকে দিয়ে বল জালে প্রবেশ করে।’
জাকির আরও বললেন, ‘গোলকিপারকে টালমাতাল করে দেওয়ার মতো একটা স্ট্রাইকার। সে ডি-বক্সের সামনে ঢুকলেই গোলকিপাররাও নানান সংশয়ে থাকে।’ জাকির মনে করেন এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স গেলে এমবাপের করা গোল সব রেকর্ড ভেঙে ফেলবে।
পারিবারিক শত ব্যস্ততার মাঝেও বিশ্বেকাপের ম্যাচ দেখতে ভুল করছেন না দেশের সাবেক এই ফুটবলার। জাকিরের প্রিয় দল ব্রাজিল। খেলোয়াড়ি জীবনে বেশি ভালোবাসতেন আবার জিদানকে। এবারের বিশ্বকাপে জাকির ফ্রান্স, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকে টপফেভারিট মনে করেন। তার মতে, এই তিন দলের যেকোনো একটি দেশ চ্যাম্পিয়ন হবে। এর বাইরে নতুন কারো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আর্জেন্টিনাকেও তিনি বেশ এগিয়ে রাখছেন। তবে এখন পর্যন্ত খেলা দেখে তার মনে হয়েছে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এক পৃথক সত্তা। তার নেতৃত্ব, খেলা একেবারেই আলাদা। বিশ্ববাসীকে তিনি আরও চমকে দিতে পারেন। ‘প্রতি ম্যাচেই মেসিকে নতুন রূপে দেখা যাচ্ছে’ জাকিরের মন্তব্য। সবশেষে তিনি বললেন, ‘এবারেও মনে হচ্ছে এই বিশ্বকাপে মেসি ও এমবাপের দ্বৈরথ। না, আর কেই বোধ হয় না, নেইও।’
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মেসির মোট গোল ১৯। সবার উপরে আছেন। এমবাপের মোট গোল ১৮। ধারণা করা হচ্ছে হয়ত সহসাই মেসিকে টপকে যাবেন এমবাপে। অবশ্য সামনের ম্যাচগুলোতেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে উঠবে।







