নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। দলের অংশগ্রহণ না করার কারণ খতিয়ে দেখতে সোমবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অণুবিভাগ) কে এম অলিউল্ল্যাকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। বাকি দুই সদস্য- জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও আইনজীবী ফয়সাল দস্তগীর। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রোববার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব অংগ্যজাই মারমা স্বাক্ষরিত এক স্মারকে কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।
ঘটনার মূলে ছিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত। সেই ঘটনাটি দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং বিষয়টি শেষপর্যন্ত ক্রীড়া পেরিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গড়ায়।
মোস্তাফিজকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য অনিরাপদ। নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ সেখানে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না।
উপদেষ্টার এই অনমনীয় অবস্থানের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সরাসরি উপদেষ্টার পক্ষ নেয়। বিসিবি তাদের দাপ্তরিক বক্তব্যে আসিফ নজরুলের উদ্বেগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়। ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় খেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেয়া হলে আইসিসির বোর্ড সভায় তা নাকচ হয়ে যায়। উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষপর্যন্ত একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে ভেন্যু নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বাংলাদেশ আর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেনি।








