দেশের চলচ্চিত্রে ‘তীব্র শিল্পী সংকট’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একসময়ে তুমুল ব্যস্ত চিত্রনায়ক আমিন খান। তার মতে, মূলধারার চলচ্চিত্রে যে ধরনের শিল্পীদের অভিনয় দেখতে দর্শক টিকিট কেটে প্রেক্ষাগৃহে আসবেন, বর্তমানে সেই ধরনের শিল্পীরই অভাব রয়েছে।
আমিন খান বলেন, যখন আমি নিয়মিত অভিনয় করতাম, তখনকার প্রায় ৭০ জন শিল্পী ইতোমধ্যে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন চলচ্চিত্রের একেকটি পিলার। তাদের উপস্থিতির কারণেই নায়ক-নায়িকা ও সিনেমার গল্প পূর্ণতা পেত। সেই শিল্পীরা আজ না থাকায় এটি চলচ্চিত্রের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমিন খান জানান, অভিজ্ঞ শিল্পীদের অনুপস্থিতির কারণে বর্তমানে চলচ্চিত্রের গল্পও শক্তিশালী হয়ে উঠছে না। এ সংকট কাটাতে সরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
সরকার প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫টি চলচ্চিত্রে অনুদান দেয় উল্লেখ করে আমিন খান বলেন, অনুদানের শর্তে নতুন প্রতিভাবান শিল্পীদের কাজের সুযোগ রাখার বিষয়টি যুক্ত করা উচিত। যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাদের সিনেমায় কাজের সুযোগ দেওয়া হলে নতুন প্রতিভারা সামনে আসবে। পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। এতে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়বে।
এদিকে, চলচ্চিত্রের শিল্পীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমিন খান। তার অভিযোগ, কারও সামনে একসঙ্গে ১০টি মোবাইল ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ধরে সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অথচ ওই ব্যক্তি আদৌ কোনো সমিতি বা সম্মানিত শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব করেন কি না কিংবা শিল্পী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে কি না—এসব যাচাই করা হচ্ছে না।
ভিউয়ের আশায় বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য বের করে আনার সমালোচনা করে আমিন খান বলেন, এতে হয়তো সাক্ষাৎকারদাতা সামান্য কিছু অর্থ আয় করছেন, কিন্তু এর বিনিময়ে দেশের চলচ্চিত্রের দীর্ঘদিনের অর্জিত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, ব্যক্তিগত ভিউ বা আয়ের জন্য এমন কর্মকাণ্ড শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিশাল ইমেজ নষ্ট করছে।
বহুদিন পর ‘গুলশানের চামেলী’ নামে নতুন একটি চলচ্চিত্রে যুক্ত হয়েছেন আমিন খান। জানা যায়, এই চলচ্চিত্রটি আগামী ঈদে মুক্তি পাবে।










