কালাইয়ে মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় একটি মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, প্রতারণা ও এলাকাবাসীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে কালাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তবে অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন মাদ্রাসার পরিচালক।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাই উপজেলার পশ্চিম কুজাইল গ্রামে অবস্থিত ‘পশ্চিম কুজাইল সালাফিয়া মাদ্রাসা’ পরিচালনা করেন একই গ্রামের তাজমুল বিন মোফাজ্জল ওরফে সাদ্দাম (৩৫)। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হয় না। পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম। বর্তমানে মাত্র চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী নিয়ে নামমাত্র মাদ্রাসাটি পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক (৬০) তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও মাদ্রাসার নামে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও দাতা সংস্থা থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু সংগৃহীত অর্থ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা না দিয়ে পরিচালক ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও দাবি করেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব অনিয়মের বিষয়ে এলাকাবাসী জানতে চাইলে পরিচালক তাদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। সর্বশেষ গত ১৯ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তাজমুল স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাঁদের ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে সোহেল রানা ও জিহাদ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার পরিচালক তাজমুল বিন মোফাজ্জল। তার দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি বলেন, তারা গত সাত বছর ধরেই আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দিয়ে আসছেন। এরা মূলত ধর্মবিরোধী। আমি তাদের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা লিখিত অভিযোগ দেব।
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন,সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। যেহেতু পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, সেটির তদন্ত হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






