হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় গায়িকা অলকা ইয়াগনিক পদ্মভূষণ সম্মান গ্রহণের পর একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি অসুস্থতার কারণে জনজীবন থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন এবং খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে দেখা যায় তাকে।
নিজের পোস্টে অলকা লিখেছেন, এই সম্মানে যদিও তার নাম রয়েছে, কিন্তু এটি তার অনুরাগীদেরও সমানভাবে প্রাপ্য। তিনি আরও জানান, শারীরিক সমস্যার মধ্যেও তিনি এই সম্মান গ্রহণ করতে গিয়েছিলেন, কারণ এই যাত্রা শুধুমাত্র তার একার নয়, তার ভক্তদেরও।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা পোস্টে অলকা ইয়াগনিক লিখেছেন, ‘গত দুই বছর ধরে আমি লাইমলাইট থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছি। জনসমক্ষে যাওয়া এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছি। আপনাদের অনেকেই জানেন যে আমি স্বাস্থ্যজনিত কিছু কঠিন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই পুরো সময়ে আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা, বার্তা এবং অটুট সমর্থন প্রতিটি পদক্ষেপে আমার পাশে থেকেছে।’
পদ্মভূষণ সম্মান গ্রহণের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি লেখেন, ‘আজ যখন আমি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ গ্রহণ করতে বাইরে বেরিয়েছিলাম, তখন আমার হৃদয় কৃতজ্ঞতায় ভরে গিয়েছিল। এই সম্মানে আমার নাম লেখা রয়েছে, কিন্তু এটি সেই সব শ্রোতাদেরও, যারা আমার কণ্ঠকে নিজেদের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন। আমার গাওয়া গানগুলোকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আগলে রেখেছেন এবং আমার জীবনের ভালো-মন্দ প্রতিটি সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
অলকা আরও লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তটি আমার কাছে বিশেষ কারণ এটি শুধুমাত্র আমার কাজের স্বীকৃতি নয়, বরং সেই শক্তিরও স্মারক, যা ভালোবাসা, আশা এবং সাহস থেকে আসে। আমি ধীরে ধীরে আবার নিজের পথে ফিরে আসছি। আর আজ আমি এখানে শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, আপনাদের সবার জন্য এসেছি, যারা এই দীর্ঘ যাত্রার অংশ ছিলেন।
নিজের পোস্টে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং ভারত সরকারকেও ধন্যবাদ জানান।
২০২৪ সাল থেকে অলকা ইয়াগনিক একটি বিরল শ্রবণজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তার রোগের নাম ‘সেন্সরিনিউরাল নার্ভ হিয়ারিং লস’। এটি একটি বিরল অসুখ, যা সাধারণত ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হতে পারে। এই রোগে কানের অভ্যন্তরীণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে শুনতে সমস্যা দেখা দেয়।
এই কারণেই অলকা ইয়াগনিক বেশ কিছু দিন ধরে জনসমক্ষে উপস্থিতি, লাইভ শো এবং রেকর্ডিং থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তবুও অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে পদ্মভূষণ গ্রহণ করতে যাওয়া তার কাছে যেমন এক গর্বের মুহূর্ত, তেমনই তা তার অনুরাগীদের জন্যও এক আবেগঘন উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।







