গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় মিশর-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করেছিলেন মিশরের ত্রাণ সংস্থার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি। তবে ম্যাচ শুরুর আগমুহূর্তেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারান তিনি। একই হামলায় আরও তিনজন নিহত হওয়ায় সম্ভাব্য উৎসবের পরিবেশ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদির পাশাপাশি গাড়িচালক আহমেদ দাগমুশ (৩৩) এবং দুই শিশু হামজা আল-দেরি (১০) ও ফারি আল-দেরি (৮) নিহত হয়।
গাজার শিফা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু সেলমিয়া হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিলেন হামাসের একজন সদস্য এবং মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। আহমেদ দাগমুশ হামলার নির্ধারিত লক্ষ্য ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা। তবে হাসপাতাল পরিচালক আবু সেলমিয়ার ভাষ্য, দাগমুশ একজন ট্যাক্সিচালক ছিলেন এবং তার কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি।
মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি গাজায় মিশর সরকারের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থার স্থানীয় শাখায় দায়িত্ব পালন করতেন। সংস্থাটি খাদ্য, আশ্রয় এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রদান করে থাকে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে গাজার বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি।
এপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। বুধবারও ইসরায়েলি হামলা ও গুলিতে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু এবং ফিলাডেলফি করিডোর এলাকায় গুলিতে নিহত এক ট্রাকচালক রয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ট্রাকচালক সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়ায় তাকে গুলি করা হয়। এছাড়া গাজা সিটির একটি সড়কে ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।
এদিকে বিশ্বকাপ চলাকালে গাজায় মিশর দলের প্রতি সমর্থন বাড়তে দেখা গেছে। এর অন্যতম কারণ মিশরের কোচ হোসাম হাসানের ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রকাশ্য সংহতি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর তিনি সেই জয় মিশর ও ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন এবং ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করেন।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বিশ্ববাসীর প্রতি ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বের সব গণমাধ্যমকর্মী ও ক্রীড়াবিদকে আহ্বান জানাই, আমরা যেন একটি যৌথ বার্তা দিতে পারি। ফিলিস্তিনি জনগণকে বেঁচে থাকতে দিন, তাদের নিজেদের মতো করে বাঁচার অধিকার দিন।”
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য শুধুমাত্র সশস্ত্র যোদ্ধারা এবং বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনায় তারা দুঃখ প্রকাশ করছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ১১০ জনে পৌঁছেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। তবে তারা বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের পৃথক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করলে চলমান যুদ্ধের সূচনা হয়।







