শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখেছিল আফগানরা। ইব্রাহিম জাদরানের সেঞ্চুরি পাওয়া ইনিংসে আশাও জেগেছিল। তবে চতুর্থ দিনে লঙ্কান বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তারা। শর্ট ফরম্যাটের ক্রিকেটে দু’দল আগে বেশ কয়েকবার দেখা হলেও টেস্টে এবারই প্রথম শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছে আফগানিস্তান। নিজেদের অষ্টম টেস্ট খেলতে নেমে লঙ্কান বোলারদের তোপে কেবল ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে পেরেছে আফগানরা। লঙ্কানদের কাছে ১০ উইকেটে হেরেছে তারা।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টসে হেরে ব্যাটে নেমে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। নিজেদের প্রথম ইনিংসে নেমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও দিনেশ চান্দিমালের সেঞ্চুরিতে ৪৩৯ রানের সংগ্রহ গড়ে লঙ্কানরা। ২৪১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে প্রবাথ জয়সুরিয়ার তোপে ২৯৬ রানে গুটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস। ৫৬ রানের লক্ষ্যে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭.২ ওভারে জয় নিশ্চিত করে লঙ্কানরা।
১ উইকেটে ১৯৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে আফগানিস্তান। মধাহ্ন বিরতির আগেই ৬ ব্যাটারকে হারায় তারা। যোগ করতে পেরেছে কেবল ৫২ রান। বিরতির পর আর বেশিক্ষণ টেকা হয়নি সফরকারীদের। ২৯৬ রানে গুটিয়ে যায় ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ ১১৪ রান করেন ইব্রাহিম জাদরান। রহমত শাহ করেন ৫০ রান। এছাড়া নুর আলী জাদরান ৪৭ ও নাসির জামাল ৪১ রান করেছেন। বাকীদের সবাই হয়েছেন ব্যর্থ।
লঙ্কানদের হয়ে প্রবাথ জয়সুরিয়া নিয়েছেন ৫ উইকেট। আসিথা ফের্নান্দো ৩টি ও কাসুন রাজিথা নেন দুই উইকেট।
জবাবে নেমে দিমুথ করুণারত্নে ও নিশান মাধুশঙ্কার অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয়ের বন্দরে নোঙর করে লঙ্কানরা। করুণারত্নে ২২ বলে ৩২ রান এবং মাধুশঙ্কা ২৩ বলে ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে অভিজ্ঞতার বিচারে পিছিয়ে থাকা আফগানরা প্রথম ইনিংসে ব্যাটে নেমে দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায়। হাল ধরেন তিনে নামা রহমত শাহ। একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অন্যপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান। দলীয় ১৫৫ রানে রহমত শাহ ফিরে যান ৯১ রানের ইনিংস খেলে। পরে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। রহমত শাহ’র পাশাপাশি দলে উল্লেখযোগ্য রান করেন নুর আলি জর্ডান (৩১), ইকরাম আলি খিল (২১) ও কাইস আহমেদ (২১ রান)। এছাড়া অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শাহিদী করেন ১৭ রান।
লঙ্কানদের হয়ে প্রথম ইনিংসে বিশ্ব ফের্নান্দো চারটি উইকেট নেন। এছাড়া আসিথা ফের্নান্দো ও প্রবাথ জয়সুরিয়া নেন তিনটি করে উইকেট।
নিজেদের প্রথম ইনিংসে নেমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও দিনেশ চান্দিমালের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৪১০ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করে লঙ্কানরা। তৃতীয় দিন ব্যাটে নেমে কেবল ২৯ রান যোগ করেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
তৃতীয় দিনে ব্যাটে নেমে ১৭ রান যোগ করার পর ফিরে যান সাদিরা সামারাবিক্রমা। ৪৩৫ রানে ফিরে যান প্রবাথ জয়সুরিয়া। ৪৩৯ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে যান গুনাসেকারারা। এরপর কোনো রান যোগ করা আগেই আসিথা ফের্নান্দো ফিরলে গুটিয়ে যায় লঙ্কানদের ইনিংস। প্রথম ইনিংসে লঙ্কানদের হয়ে ম্যাথুজ করেছেন ১৪১ রান। চান্দিমাল খেলেছেন ১০৭ রানের ইনিংস। এছাড়া দিমুথ করুনারত্নে ৭৭ রান করেন।
আফগানদের হয়ে নাভিদ জাদরান নেন চারটি উইকেট। এছাড়া কাইস আহমেদ ও নিজাত মাসুদ দুটি করে উইকেট নেন।
তৃতীয় দিন ব্যাট করার সময় মাথায় বলের আঘাত পান শ্রীলঙ্কার অভিষিক্ত পেসার চামিকা গুণাসেকারা। ১০৭তম ওভারে আফগানিস্তানের ডানহাতি পেসার নাভিদ জাদরানের একটি বাউন্সার আটে ব্যাট করতে নামা ২৪ বর্ষী পেসারের হেলমেটে এসে লাগে। দ্রুত কনকাশন পরীক্ষা করা হলেও সেখানে উৎরে যান এ পেসার। দুই ওভার পর ভুগতে থাকা গুণাসেকারা মাথা ধরে মাঠের বাইরে চলে যান। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তার কনকাশন সাব হিসেবে দলে ঢুকেন ডানহাতি পেসার কাসুন রাজিথা। ব্যাট না করলেও কনকাশন হিসেবে নামা ৩০ বর্ষী পেসার রাজিথ আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে বল করেছেন এবং উইকেটও নিয়েছেন।








