আলো ছড়িয়ে ৮৭ বছরে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
চ্যানেল আইয়ের শুভেচ্ছায় শুরু, সকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে জন্মোৎসব

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ জন্মদিনে পরিবারের সাথে কেক কাটছেন, চারপাশে বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক এবং ‘আলোকিত মানুষ চাই’ আন্দোলনের প্রবর্তক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ৮৭তম জন্মদিন শনিবার (২৫ জুলাই)। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের আজীবন সাধক এই গুণী মানুষের জন্মদিন উপলক্ষে দিনভর নানা আয়োজনে তাঁকে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
জন্মদিনের প্রথম প্রহরেই চ্যানেল আই পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর বাসভবনে যান চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দেশের প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর। চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে নেওয়া জন্মদিনের কেক কেটে পারিবারিক আবহে উদযাপন করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। এ সময় তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানান ফরিদুর রেজা সাগর।
সকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজন করা হয় তাঁর জন্মোৎসব। কেন্দ্রের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি তাঁর জীবন, দর্শন, বই পড়া আন্দোলন এবং সমাজ গঠনে অবদান নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় মুক্ত আলোচনা।
দেশে বই পড়ার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ কয়েক দশক ধরে ‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগানকে ধারণ করে জ্ঞান, মানবিকতা ও সংস্কৃতিনির্ভর সমাজ গঠনের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বই পড়া কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের লাখো শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি আজও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
১৯৪০ সালের ২৫ জুলাই কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তাঁর পৈতৃক বাড়ি বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার কামারগাতি গ্রামে। বাবা আজীমউদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন খ্যাতিমান শিক্ষক এবং মা করিমুন্নেসা। বাবার আদর্শ ও শিক্ষাদর্শন থেকেই শিক্ষকতা ও মানুষ গড়ার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের সূচনা।
১৯৬১ সালে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় কেটেছে ঢাকা কলেজে। একজন শিক্ষক হিসেবে যেমন তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তেমনি একজন সংগঠক হিসেবেও রেখে গেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, যা আজ দেশের অন্যতম প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
ষাটের দশকের নতুন সাহিত্য আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরুর দিক থেকেই জনপ্রিয় উপস্থাপক হিসেবে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেন। পাশাপাশি কবিতা, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, নাটক, অনুবাদ, জীবনীসহ নানা বিষয়ে তাঁর প্রকাশিত বই রয়েছে।
শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক নানা আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক সমাজ গঠনের বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর নেতৃত্ব বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে।
দেশ ও সমাজে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার, জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার, বাংলাদেশ বুক ক্লাব পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।






