মতামত

সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্নে এক জীবন, প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু

সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্নে এক জীবন, প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু

প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা অনেকেরই থাকে। কেউ সেই ভালোবাসা প্রকাশ করেন গাছ লাগিয়ে, কেউ পাখির ডাক শুনে মুগ্ধ হন, কেউবা অবসর কাটান পাহাড়, বন কিংবা নদীর কাছে। কিন্তু ভালোবাসাকে যখন একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দায়বদ্ধতায় রূপ দেওয়া হয়, তখন তা ব্যক্তিগত অনুভূতির সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর মানুষের কাজে লাগে। মুকিত মজুমদার বাবুর জীবনে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এই রূপান্তরই বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি থাকলেও দেশের মানুষের কাছে তিনি ‘প্রকৃতিবন্ধু’ নামেই বেশি পরিচিত। তার কাজের বড় অংশজুড়ে রয়েছে প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, নতুন প্রজন্মকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রকৃতি রক্ষার উদ্যোগকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া।

২৫ অক্টোবর তার জন্মদিন। ১৯৭১ সালে ছাত্রাবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এই মানুষটির জীবনপথে দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় পাওয়া যায় নানা উদ্যোগে। পরিবেশ নিয়ে কাজের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবিকায়ন ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো ক্ষেত্রেও যুক্ত হয়েছে তার উদ্যোগ। সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার। পরিবেশ সংরক্ষণে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম মুকিত মজুমদার বাবুর। তার শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেটেছে নটর ডেম কলেজে। ১৯৭৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান তিনি। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে ১৯৮৪ সালে দেশে ফেরেন। এরপর শুরু করেন ব্যবসা। ইমপ্রেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে তিনি ব্যবসায়ী জগতের সঙ্গে যুক্ত হন। তবে তার পরিচিতি ক্রমে বিস্তৃত হয়েছে ব্যবসার পরিসর ছাড়িয়ে। দেশের প্রকৃতি, বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রশ্নে তিনি বেছে নিয়েছেন দীর্ঘমেয়াদি কাজের পথ।

প্রকৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে তার ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি সহজ উপলব্ধি—প্রকৃতি ভালো না থাকলে মানুষের জীবনও ভালো থাকতে পারে না। বন, নদী, জলাভূমি, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। অথচ উন্নয়ন ও দৈনন্দিন জীবনের নানা চাপে প্রকৃতি ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় পরিবেশ সংরক্ষণকে কেবল বিশেষজ্ঞ কিংবা পরিবেশকর্মীদের আলোচনার বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি তিনি। বরং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছেন।

এই লক্ষ্য থেকেই ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। নতুন প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত, সুস্থ ও প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু। পরের বছর, ২০১০ সালে, চ্যানেল আইয়ে শুরু হয় ধারাবাহিক তথ্যচিত্র অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’। পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনুষ্ঠানটি কাজ করছে। টেলিভিশনকে কাজে লাগিয়ে প্রকৃতির নানা বিষয় সাধারণ দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা গড়তে শুধু পর্দায় তথ্য তুলে ধরাই যথেষ্ট নয়। মানুষের হাতে এমন উপকরণ পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন, যা থেকে তারা জানতে পারবেন, বুঝতে পারবেন এবং নিজের জীবনেও তার প্রয়োগ করতে পারবেন। সেই ভাবনা থেকে মুকিত মজুমদার বাবু নিয়মিত লিখেছেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে। একুশে বইমেলায় প্রতিবছর প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর প্রকৃতিবিষয়ক বই। ‘আমার অনেক ঋণ আছে’, ‘আমার দেশ আমার প্রকৃতি’, ‘আমার রূপসী বাংলা’, ‘সবুজ আমার ভালোবাসা’, ‘স্বপ্নের প্রকৃতি’, ‘সবুজে সাজাই আমার বাংলাদেশ’ এবং ‘হৃদয়ে সবুজ বাংলা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে। খ্যাতিমান লেখকদের লেখা নিয়ে সম্পাদনা করেছেন ‘প্রকৃতিকথা’। ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘প্রকৃতিবার্তা’র সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।

বই ও পত্রিকার পাশাপাশি লিফলেট, দিনপঞ্জি ও অন্যান্য প্রকাশনার মাধ্যমেও প্রকৃতিবিষয়ক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে তার। এসব প্রকাশনা বিনামূল্যে তৃণমূল পর্যায়ে বিতরণ করা হয়। এর লক্ষ্য, প্রকৃতি সংরক্ষণের জ্ঞান যেন কেবল শহরের শিক্ষিত কিংবা পরিবেশ নিয়ে কাজ করা মানুষের মধ্যে সীমিত না থাকে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন নিজেদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার সুযোগ পান।

তার উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাঠপর্যায়ের কাজ। দেশি প্রজাতির বৃক্ষরোপণ, বন্যপ্রাণী অবমুক্তকরণ, পাখিশুমারি, পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণ এবং বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রকৃতিবিষয়ক তথ্যকেন্দ্র স্থাপন, প্রজাপতি পার্ক প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় গাছের পরিচিতি ফলক সংযুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে এর কাজের পরিধিতে। এসব কার্যক্রম প্রকৃতি সম্পর্কে মানুষের জানার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণের বাস্তব প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।

দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণের কাজ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মহাবিপন্ন বাটাগুর বাসকা বা বড় কাইট্টা কাছিমের প্রজনন ও সংরক্ষণ, বিপন্ন শকুন রক্ষা এবং শিকারি পাখি নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ক্ষেত্রেও কাজ করছে ফাউন্ডেশন। বন বিভাগের সঙ্গে ‘সুফল’ কর্মসূচিতেও সহযোগিতা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব উদ্যোগের পেছনে রয়েছে প্রকৃতিকে শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্য হিসেবে দেখার বদলে একটি জীবন্ত ব্যবস্থা হিসেবে বোঝার প্রয়োজনীয়তা। কোনো একটি প্রজাতির বিলুপ্তি কিংবা বনভূমির ক্ষতি যে বৃহত্তর পরিবেশের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে, সেই উপলব্ধি ছড়িয়ে দেওয়াও সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ।

পরিবেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরিতেও গুরুত্ব দিয়েছেন মুকিত মজুমদার বাবু। পরিবেশবিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক, কর্মশালা, গবেষণা এবং জনসচেতনতামূলক স্কুল কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রতিবছর বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনেও অংশ নেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সমস্যার মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আলোচনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে প্রকৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগও জরুরি। তার কাজের পরিধিতে এই দুই স্তরের কর্মকাণ্ডের সমন্বয় দেখা যায়।

প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা শহুরে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আয়োজন করা হয় প্রকৃতি মেলা। পাশাপাশি সংরক্ষণে উৎসাহিত করতে দেওয়া হয় প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক। তবে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব। ২০২২ সালের ৫ জুন গঠিত এই ক্লাবের শাখা দেশের ৬৪টি জেলায় বিস্তৃত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রকৃতি রক্ষায় মানুষকে সংগঠিত করা এবং পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই এর লক্ষ্য।

ক্লাবগুলোর মাধ্যমে ২০২৩ সালের ৫ মে থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ শিরোনামের এ কর্মসূচিতে ১০ লাখের বেশি দেশি প্রজাতির গাছ রোপণ ও বিতরণ করা হয়। বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দিতে পুরস্কৃত করা হয় অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোকে। দেশি প্রজাতির গাছের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এ ধরনের কর্মসূচিতে পরিবেশের উপযোগিতা ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে আসে। একই সঙ্গে জেলাভিত্তিক ক্লাব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণকে স্থানীয় মানুষের নিয়মিত কাজের অংশ করে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মুকিত মজুমদার বাবুর কাজের পরিধি প্রকৃতি সংরক্ষণেই শেষ নয়। মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ও সংকটের সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ রয়েছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে এক লাখ তিন হাজারের বেশি অসহায় ও দুস্থ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছেন। এ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রসূতিসেবা, অস্ত্রোপচারের খরচ বহন এবং হুইলচেয়ার প্রদান। এ ছাড়া দেশের ৩০ জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলে মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে ৪৩ হাজারের বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে।

দারিদ্র্য মোকাবিলায় সহায়তাকে কেবল তাৎক্ষণিক অনুদানে সীমাবদ্ধ না রেখে আয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অতিদরিদ্র ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে গরু-ছাগল এবং হাঁস-মুরগি পালনের উপকরণ, মাছ চাষের সহায়তা, সেলাই মেশিন, রিকশা ও ইজিবাইক দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য, মানুষ যেন নিজের শ্রম ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন। পরিবেশবান্ধব জীবিকায়নের সুযোগ তৈরি হলে প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোও সম্ভব।

করোনাকালে বিভিন্ন জেলায় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো, অসচ্ছল মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ এবং ঝরে পড়া শিশুদের আবার স্কুলমুখী করার উদ্যোগেও যুক্ত ছিল তার প্রতিষ্ঠান। স্কুলশিশুদের বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণেও সহায়তা করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি দেখায়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নকে তাঁর সামগ্রিক উদ্যোগ থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছে মুকিত মজুমদার বাবু ও প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের পাশাপাশি তাদের অর্জনের তালিকায় রয়েছে জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১২, বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন-২০১৩, জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৫, এইচএসবিসি-দি ডেইলি স্টার ক্লাইমেট অ্যাওয়ার্ড-২০১২ এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন চাঁদ সুলতানা পুরস্কার-২০১৫। এ ছাড়া ফোবানা অ্যাওয়ার্ড-২০১৬, বিজনেস এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড-২০১৪, পল্লীমা গ্রিন স্বর্ণপদক-২০১৭ ও ‘এ ফ্রেন্ড অব নেচার-২০২১’ সম্মাননাও রয়েছে তাদের অর্জনের তালিকায়।

এসব সম্মাননা গুরুত্বপূর্ণ; তবে পরিবেশ সংরক্ষণের মতো দীর্ঘমেয়াদি কাজে সাফল্য পরিমাপের আরও কিছু মানদণ্ড রয়েছে। কত মানুষ প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন হলেন, কতজন সংরক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত হলেন, বিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় কতটা অগ্রগতি হলো এবং নতুন প্রজন্ম পরিবেশের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল হয়ে উঠল—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মুকিত মজুমদার বাবু এখানেই তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন, যা প্রকৃতির বার্তাকে বই, টেলিভিশন, শিক্ষা, গবেষণা, মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি ও সামাজিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

তার কাজের দিকে ফিরে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়: প্রকৃতিকে ভালোবাসার সঙ্গে তাকে রক্ষা করার দায়িত্বও জড়িয়ে আছে। সেই দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন ধারাবাহিক উদ্যোগ, জনসম্পৃক্ততা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করা। মুকিত মজুমদার বাবুর দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের মূল সুরও এটাই—বাংলাদেশের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ অবস্থায় পৌঁছাতে পারে।

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই–এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিষয়:জন্মদিন নতুন প্রজন্ম প্রকৃতি প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…