চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘কার্যকর বিসিটিআই রূপরেখা’ প্রণয়নে ৯ দফা দাবি উত্থাপন

সুস্থধারার চলচ্চিত্র সংস্কৃতি রক্ষায় ‘কার্যকর বিসিটিআই রূপরেখা’ প্রণয়নে সম্প্রতি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ‘বিসিটিআই বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী সম্মিলন পরিষদ’। অবস্থান কর্মসূচিতে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা চলচ্চিত্র শিল্পের একটি জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিটিআই ইতোমধ্যে সাত (৭) বছর পূর্ণ করেছে। এবং এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নির্মিত চলচ্চিত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সুনামের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে এবং করছে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ও প্রশাসনিক নানাবিধ জটিলতার দরুন সম্ভাবনাময় এই প্রতিষ্ঠানটি খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন বিসিটিআই বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী সম্মিলন পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ে গত রবিবার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। ৯ দফা দাবিতে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। এ কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্সটিটিউট (বিসিটিআই) কে একটি আধুনিক ও কার্যকরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে ৯ দফা প্রস্তাবনা:

১) প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী/মহাপরিচালক ও গভর্নিং বডির সভাপ্রধান/চেয়ারপার্সন হিসেবে চলচ্চিত্র/ টেলিভিশন মাধ্যমের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দেয়া। এবং দায়িত্বের মেয়াদকাল ন্যুনতম ২ বছর করা।

২) কার্যকরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার লক্ষ্যে একটি একাডেমিক কাউন্সিল গঠন করা, যার অধীনে বিষয়ভিত্তিক গবেষণা ও সেমিনার অন্তর্ভুক্তি সহযোগে একটি মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন হবে।

৩) বর্তমান ডিপ্লোমা ডিগ্রির (২ বছর মেয়াদী কোর্স) সনদ বাতিল করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা।

৪) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্সটিটিউট (বিসিটিআই) এর জন্য বরাদ্দকৃত জায়গায় নিজস্ব ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা এবং স্থায়ী জনবল নিয়োগ দেয়া।

৫) বর্তমান প্রণিধানমালার কিছু ধারায় সংশোধনীসাপেক্ষে শিক্ষক হিসেবে চিফ ইন্সট্রাক্টর, সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদের স্থলে প্রভাষক, সহকারি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদের অন্তর্ভুক্তি করা। এবং চলচ্চিত্র বিষয়ে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞদের বয়সসীমা শিথিল রেখে শিক্ষক ও কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিটিআই’র মেধাবী নির্মাতা/ শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া।

৬) চলমান শিক্ষা কোর্সের (২ বছর মেয়াদী) সমাপনী চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ভ্যাট ও ট্যাক্স ব্যতীত ন্যুনতম বাজেট ৫,০০,০০০.০০ (পাঁচ লক্ষ টাকা) নির্ধারণ করা।

৭) চলচ্চিত্র শিল্পের ও নির্মাণ মানের উৎকর্ষ বিবেচনায় বিসিটিআই শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র স্টুডিও, ইন্সটিটিউট, একাডেমি প্রভৃতি সাথে শিক্ষা বিনিময় এবং সরকারিভাবে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। সেক্ষেত্রে আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইতালি, ভারত, হাঙ্গেরি, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান, কোরিয়া, জাপান ও চীনের সরকারি চলচ্চিত্র স্টুডিও/ ইন্সটিটিউট সমূহকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিবেচনায় রাখা।

৮) বিসিটিআই’র কোর্স (২ বছর মেয়াদী) সম্পন্ন করা মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি অর্থায়নে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ দেয়া। এবং প্রতিবছর এই প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব করা।

৯) একাডেমিক কাউন্সিল ও গভর্নিং বডিতে বর্তমান/চলমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিনিধিত্ব করার ব্যবস্থা রাখা। এবং বর্তমান প্রণিধানমালায় শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্র সংসদ গঠন কার্যক্রম ও অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থী/ নির্মাতাদের কল্যাণে এককালীন তহবিলের বিধান রাখা।