ভিয়েতনামে আঘাত হেনেছে দক্ষিণ চীন সাগরে উদ্ভূত ঘূর্ণিঝড় ইয়াগি। ইয়াগির আঘাতে ৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে ঝড়টি আছড়ে পড়ে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ও জাতীয় দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
তিনটি প্রদেশের ওপর দিয়ে ইয়াগির মূল আঘাত গেছে। সেগুলো হলো—হাই ফং, কুয়াং এবং হাই দুয়ং।
হাইফংয়ের যেসব ঘর ও ভবনের ছাদ ধাতব শিটের ছিল, ঝড়ের আঘাতে সেগুলোর সবই প্রায় উড়ে গেছে। ঝড় আসার পর হাইফংয়ের আকাশে প্রচুর টিনশেড এবং টিনের তৈরি সাইনবোর্ড উড়তে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ভিয়েতনামের আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব এলাকার ওপর দিয়ে গিয়েছে ইয়াগি, সেসব এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার অতিক্রম করেছিল। ভয়াবহ গতির সেই বাতাসে অনেক এলাকায় গাছপালা-বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। হাই দুওং প্রদেশে গাছ চাপায় এক ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে।
ভিয়েতনামে আছড়ে পড়ার আগে আগে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ কো টু’তে আগাত হেনেছিল ইয়াগি। এ সময় সেখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। ঝড়ের জেরে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হাইনানে ২ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ৯২ জন।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চল এবং রাজধানী হ্যানয় ও তার আশপাশের এলাকায় ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়া বইছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুকবার সকাল থেকেই বিমান চলাচল বন্ধ ছিল রাজধানী হ্যানয়ের নোই বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ উত্তরাঞ্চলের ৪টি বিমানবন্দর।
প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড় ইয়াগি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি ঝড়। গত সপ্তাহে দক্ষিন চীন সাগরে উদ্ভূত হওয়ার পর সেটি প্রথমে আঘাত হানে ফিলিপাইনের লুজোন দ্বীপে। এতে সেখানে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিপাইনে তাণ্ডব চালানোর পর চীনের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে ভিয়েতনামে প্রবেশ করে ইয়াগি।










