ভুটানের ‘মাইন্ডফুলনেস’ নগরীতে এক দিনে নির্মিত ১০৮ বৌদ্ধ স্তূপ

ছবি: সংগৃহীত
ভুটানের নতুন ‘মাইন্ডফুলনেস’ নগরী গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এক দিনে ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণ করেছেন দেশটির কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে হিমালয় অঞ্চলের দেশটি। স্তূপ নির্মাণের এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ।
১৫ মিটার (প্রায় ৫০ ফুট) উচ্চতার এসব স্তূপ হিমালয় অঞ্চলে প্রচলিত বৌদ্ধ ধর্মের পবিত্র স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। রোববার ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভবিষ্যৎ ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’র জন্য নির্ধারিত স্থানে ১২ কিলোমিটার নদীতীরজুড়ে স্তূপগুলো স্থাপন করা হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
কর্মকর্তারা জানান, মধ্যরাতের পর কাজ শুরু করে ৪০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী এসব স্তূপ নির্মাণে অংশ নেন। তাদের ভাষায়, স্তূপগুলো পাথর ও মাটিতে স্থায়ী রূপ পাওয়া প্রার্থনার প্রতীক। বৌদ্ধ ধর্মে ১০৮ সংখ্যাটিকে পবিত্র মনে করা হয়। ভুটানেও ব্যাপকভাবে এই ধর্মের অনুসারী রয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, স্তূপ স্থাপনের অনুষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ মানুষ অংশ নেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক বলেন, ‘এক দিনে ১০৮টি স্তূপ নির্মাণের পরিকল্পনা সফল হবে কি না, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। তবে সবকিছু সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’
রাজা ও দেশটির নেতারা আশা করছেন, গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি ভুটানের অর্থনীতিতে গতি আনবে এবং তরুণদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা কমাবে। টেকসই ব্যবসা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, শিক্ষা, পর্যটন ও আর্থিক সেবা খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে শহরটি গড়ে তোলা হচ্ছে।
বেকারত্ব বৃদ্ধি, জন্মহার কমে যাওয়া এবং দক্ষ কর্মীদের ব্যাপকভাবে বিদেশে চলে যাওয়ার মতো নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে ভুটান।
বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস এই গেলেফু এলাকায়। ভুটানের দক্ষিণাঞ্চলে ভারতের সীমান্তসংলগ্ন এই শহর রাজধানী থিম্পু থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
২০২৪ সালে রাজকীয় সনদের মাধ্যমে এলাকাটিকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন রাজা। তখন তিনি এর উদ্দেশ্য হিসেবে একটি প্রাণবন্ত অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন।
চীন ও ভারতের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত দেশ ভুটানের জনসংখ্যা আট লাখের কিছু কম। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ বা জাতীয় সামগ্রিক সুখকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির জন্য পরিচিত দেশটি।
তরুণদের কর্মসংস্থানে সহায়তাকারী সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর ইয়ুথ এমপাওয়ারমেন্টের প্রধান ৬৫ বছর বয়সী নিমা গেলতশেন বলেন, ‘এই আয়োজন আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’



