সিলেটে ড. জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনায় হামলাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় উদঘাটন এবং হামলার মূলে কারা আছে তা জানাতে সরকারকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। এছাড়াও আগামী ৬ মার্চ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং ৮ মার্চ জেলা উপজেলায় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
জাফর ইকবালের উপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে সুধী সমাজের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামী ৬ মার্চ সকাল দশটায় সারা বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র-শিক্ষক সমন্বয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্ব স্ব উদ্যোগে স্ব স্ব ব্যানারে এই মানববন্ধন করবে।
“বৃহস্পতিববার ৮ মার্চ সারা বাংলাদেশে জেলা উপজেলায় গণবিক্ষোভ পালিত হবে। রাজধানী ঢাকায় এই গণবিক্ষোভ পালিত হবে শাহবাগে।”
লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
রোববার (০৪ মার্চ) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে পরীবাগ মোড় ঘুরে ফের শাহবাগে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি’ এবং ‘হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের কর’ লেখা সংবলিত ব্যানার শোভা পায়।
এরপর সেখানে পরবর্তী কর্মসূচীর ঘোষণা দেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
তিনি বলেন, যারা আক্রমণ করছে আমরা তাদের চিনি, আক্রমণকারীরা রাগ ঢাক করে হামলা করেনি, তারা ঘোষণা দিয়েই হামলা করেছে, রাস্তায় নেমেই হামলা করেছে, ঘোমটা দিয়ে থাকেনি।তাদেরকে আমরা চিনি না সরকার চেনে না রাষ্ট্র জানে না এমন হয়।কিন্তু তাদের কথা আমরা বলছি না, সরকার বলছে না। আমরা জানতে চাই কারা এই হত্যাচেষ্টার পেছনে জড়িত, কারা অর্থ দিয়েছে।বাংলাদেশের সকল মানুষের এ হত্যাচেষ্টার পেছনে কারা জড়িত সেটা জানার অধিকার রয়েছে।সরকারকে আহ্বান জানাবো আর কালক্ষেপন না করে যে অপরাধীকে ধরা হয়েছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার বিস্তারিত পরিচয়, রাজনৈতিক পরিচয় জানাতে হবে।
ইমরান এইচ সরকার বলেন, হত্যাকারীদের ধরা হলেও তাদের জামিনে বের করা হচ্ছে,আবার হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। সরকারকে স্পষ্ট বলতে হবে কেন জঙ্গিরা জামিনে ছাড়া পাচ্ছে। আমরা চাই এই সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলা শেষ হোক, জাফর ইকবাল যেন শেষ ব্যক্তি হন যার উপর সন্ত্রাসী হামলা পরিচালিত হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারকে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে একদিকে জঙ্গিদের বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবেন, আর একদিনে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বলবেন তা হবে না।যদি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান হয় তবে জিরো টলারেন্স নীতিতে অ্যাকশন নিতে হবে।তাদের ব্যাপারে কোন আপোশ বরদাস্ত করা হবে না।
এরআগে বিকেলে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বিচার ও পরিকল্পনাকারীকে খুঁজে বের করতে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের প্রজন্ম চত্বরের বিক্ষোভ সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র সমাবেশের সূচনা বক্তব্যে বলেন, বেছে বেছে মুক্তচিন্তার মানুষগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
“এর আগেও গণজাগরণ মঞ্চের বেশ কয়েকজন সক্রিয় সংগঠককে হত্যা করলেও খুনিরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এ কারণেই হামলাকারীরা নিজেদেরকে বেশি শক্তিশালী মনে করে। আরও হামলা করার সুযোগ খোঁজে।”
“অভিজিৎ রায়ের চার্জশীট দিতে ৩২ বার তারিখ পিছিয়েছে। অপরাধীরা সবসময় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিল, থাকছে। তাদেরকে দ্রুত আইনের অাওতায় আনতে হবে।”
সমাবেশে লেখক ও প্রকাশক রবিন আহসান বলেন, ‘গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী হত্যার বিচারসহ লেখক-প্রকাশক হত্যার বিচার হয় না। যখন আমরা বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতাম, তখন আমাদের পাশে জাফর ইকবাল স্যার থাকতেন। সেই জাফর ইকবাল স্যারের উপর গতকাল পেছন থেকে হামলা করা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বিদেশি শক্তি ও মৌলবাদি শক্তি জড়িত। যার প্রথম শিকার অভিজিৎ রায়, দ্বিতীয় জাফর ইকবাল।’
মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ‘যারা মুক্তমনাদের কন্ঠরোধ করেতে চায় তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করলে চলবে না এর পেছনে কারা ছিল। কারা মূল পরিকল্পনাকারী তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই হামলার শিকার হন। দেহরক্ষী বেষ্টিত কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই অধ্যাপক ও লেখকের উপর শনিবার বিকেলে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচ-এ স্থানান্তর করা হয়।
তার শারীরিক অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত উল্লেখ করে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য আরও কিছুদিন তাকে হাসপাতালে রাখা হবে। চিকিৎসকরা বলছেন, জাফর ইকবাল বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ, সচেতন এবং এবং শঙ্কামুক্ত অবস্থায় আছেন। এখন পর্যন্ত করা পরীক্ষায় দেখা গেছে তার মানসিক অবস্থাও স্বাভাবিক।








