আগামী মাসেই ঢাকায় বসছে তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের তৃতীয় আসর। তিন দিনের মেলা আয়োজনে উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জোর দিয়েছেন অংশগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। লেন-দেন ব্যবস্থা কতোটুকু ডিজিটাল হলো তারও একটা পর্যালোচনা তৈরীর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আগামী ১৯ থেকে ২১ অক্টোবর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মেলায় শতাধিক তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ যোগ দেবেন বলে আশা সফটওয়্যার রপ্তানিকারকদের সংগঠন বেসিস। সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মেলার উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বেসিসের সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে মেলার প্রতিপাদ্য ছিলো ‘ভবিষ্যতের বাংলাদেশে স্বাগতম’, পরেরবার বলা হয়েছিলো ‘বাংলাদেশেই ভবিষ্যৎ’, আর এবার প্রতিপাদ্য ‘অবিরাম বাংলাদেশ’।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন,‘শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে যখন ডিজিটাল কথাটা বলেছেন বিরোধীপক্ষ তখন মশকরা করত। এখন এর ছোঁয়া গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই গতি থাকলে টার্গেট ছাড়িয়ে যাব। এই খাত অর্থনীতিতেও বিরাট ভূমিকা রাখছে।’।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘কোন কোন মন্ত্রণালয় কী কী সেবা দিচ্ছে তার তালিকা থাকা উচিত। সাইবার জগতের বড় হুমকি সাইবার ক্রাইম। এটা মোকাবেলায় সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তারও প্রদর্শনী থাকা উচিত ।’
বৈঠকে জানানো হয়, এই মুহূর্তে প্রতি সেকেন্ডে ৪০ লাখ মেগাবাইট ডেটা বিনিময় হয়, প্রতি ২ সেকেন্ডে ১৫ পেটাবাইট ডেটা ডাউনলোড হয়, প্রতি ৫ সেকেন্ডে বাংলাদেশের তরুন-তরুনীরা বিভিন্ন প্রোগাম তৈরীতে ৮ কোটি শব্দ লেখে, আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেন-দেন হচ্ছে ৬’শ কোটি টাকার ওপরে। কেবল গত বছরেই মোবাইল এর মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ৪০ লাখ আম। এসব তথ্যই তুলে ধরা হবে বিদেশীদের সামনে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড সম্মেলন আমরা করছি ১৯ থেকে ২১ অক্টোবর। সেটার প্রিপারেশনের জন্য আজকের এ অনুষ্ঠান। এখানে নিয়ারলি হান্ড্রেডস অব স্পিকারের পার্টিসিপেশন (প্রায় এক শ বিদেশি বক্তা) আশা করছি। ৪০টি মিনিস্ট্রি তাদের স্টল নিয়ে মেলায় অংশ নেবে।
তিনি আরো বলেন, সবাই এ মেলার বিষয়ে জানতে পারলে মেলায় স্টল আরও আসবে।
সভায় জানানো হয়, মেলায় প্রদর্শনীতে থাকবে সফটওয়্যার শোকেসিং, ই-গভর্নেন্স এক্সপোজিশন, মোবাইল ইনোভেশন, ই-কমার্স এক্সপো ও স্টার্টআপ জোন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট ১২টি সেমিনার হবে।
সভায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পুরস্কার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।







