অবাক হচ্ছি এরই মধ্যে আঠারো বছর পেরিয়ে এসেছে চ্যানেল আই। আমাদের দেশে টেলিভিশন খাতের যে উন্নয়ন তা চ্যানেল আইকে দেখেই অনুমান করা যায়।
এই উপমহাদেশে প্রথম টেলিভিশন শুরু হয় বাংলাদেশে। আমার বন্ধু জামিল চৌধুরী ১৯৬৫ সালে ঢাকায় টেলিভিশন স্থাপনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তখন টেলিভিশন ভারতেও নেই, পাকিস্তানেও নেই। টেলিভিশনের সব অনুষ্ঠান হতো ডিআইটির অত্যন্ত উত্তপ্ত একটি কামরা থেকে। আমার এই উত্তপ্ত কামরার কথাটি মনে আছে এই জন্যে যে, আমি একটা ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলাম সেখানে। সেই সাক্ষাৎকারের সময় আমার সারাটা কপাল জুড়ে ঝরঝর করে ঘাম পড়ছিল। আমি কিছুক্ষণ পরপরই সেটা মুছছিলাম। খুবই মনে আছে।
এটি আসলে এই ভূমিতে টেলিভিশনের ইতিহাস। তার বহু বছর পর নব্বইয়ের দশকে এদেশে প্রাইভেট টেলিভিশন শুরু হলো। তখন ঢাকায় স্টুডিওতে অনুষ্ঠান তৈরি করে সেটা সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে সেখান থেকে যন্ত্রস্থ করে তা ক্যাবলের মাধ্যমে দেখানো হতো।
১৯৯৯ সালে চ্যানেল আইয়ের শুরুটা এভাবেই। অনুষ্ঠান সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে তা সম্প্রচাারের এই কাজটি কয়েক বছর চ্যানেল আইকে করতে হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে তারা এমন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে যে, দেশের দর্শকরা কখনোই বোঝেননি অনুষ্ঠানটি কোথা থেকে কীভাবে সম্প্রচার হচ্ছে। সেসময় থেকেই
আমি চ্যানেল আই এর কিছু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে শুরু করি।
চ্যানেল আই এর যে বিবর্তন, তা আমি যেসব অনুষ্ঠান করেছি তা থেকেও কিছু উপস্থাপন করতে পারি। যেমন চ্যানেল আই, ’হৃদয়ে বাংলাদেশ’ শ্লোগানকে সামনে রেখেই তাদের পথচলা। একটা সময় ছিল যখন ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ বিষয়টি ততটা সরকারি কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হতো না। তখন চ্যানেল আই অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য একটি ভূমিকা পালন করে। দেশের বিভিন্ন জায়গা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, প্রসিদ্ধ ক্ষেত্র এসব তুলে ধরার অনুষ্ঠান শুরু করে চ্যানেল আই। আমি এমন একটি অনুষ্ঠানে একাধিকবার অংশগ্রহণও করেছি।
তবে যেটি সবচেয়ে বেশি আমার মনে আছে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চ্যানেল আই-এর অনন্য কার্যক্রম। যখন মুক্তিযুদ্ধও দেশে প্রাধান্য পাচ্ছে না তখন প্রতিদিন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনুষ্ঠান করছে চ্যানেল আই। এটি ছিল এক অনবদ্য ও সময়োপযোগী কাজ। এই অনুষ্ঠানে আমি ছয়-সাতটি পর্বে অংশ নিয়েছি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি বিদেশে ছিলাম। বিদেশের কাগজে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যেসব লেখালেখি প্রকাশিত হয় তার বড় একটি সংগ্রহ আমার কাছে ছিল। তার ভিত্তিতেই আমি টেলিভিশনে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের জাতীয় টেলিভিশন বাংলাদেশ টেলিভিশনে যতটা না কথা বলেছি তার চেয়ে কয়েক’শ গুণ বেশি কথা বলেছি চ্যানেল আইতে। অন্যান্য টেলিভিশনে আমার অংশগ্রহণ যোগ করলেও চ্যানেল আই এর সমান হবে না।
চ্যানেল আইয়ের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আমার প্রথম থেকেই চেনাজানা ও সখ্য রয়েছে। অনেক আগে থেকেই আমি ফরিদুর রেজা সাগরকে চিনি। শাইখ সিরাজ কত বছর ধরে আমার ইন্টারভিউ করছেন তার হিসাবও আমার কাছে নেই। আমি বারবার চ্যানেল আইতে এসেছি। তাদের পর্দায় এসেছি। এর থেকে দর্শকরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারেন এই চ্যানেলটির প্রতি আমার অন্যরকমের একটি ভালোবাসা বরবারই রয়েছে।
এই ভালোবাসার বড় কারণ যেটি সেটি হচ্ছে শ্লোগান ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’। হৃদয়ে যদি বাংলাদেশ থাকে, তাহলে বাংলাদেশকে কোনোভাবে কোনো সময়ে অবহেলা করা সম্ভব নয়। সুযোগ না থাকলেও দেশপ্রেমে জাগ্রত করার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে চ্যানেল আই একেকটি উদ্যোগ নিয়েছে। ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ এর অঙ্গীকার পুরণ করেছে। এটি অনেক বড় দায়িত্ব। এর মধ্যেই রয়েছে দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেম। এই দায়বদ্ধতার কারণেই চ্যানেল আই বিশেষভাবে অভিনন্দন পাওয়ার দাবি রাখে।










