প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২ এর ওপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। প্রতিবেদনে বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সিভিল সোসাইটিতে চলছে প্রস্তাবিত আইনের কিছু বিষয়ে আপত্তি।
সব ঠিক থাকলে আগামী ২০২৩ সালের শেষের দিকে দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা আছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ সামনের মাসে শেষ হয়ে যাবে। বিগত কমিশনগুলোসহ বর্তমান কমিশনের উপরে দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নানা আপত্তি আর জনগণের ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা সময়ে। সেজন্য সব মিলিয়ে বর্তমান সময়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই আইন।
নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। এটি গঠন করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়ন নিয়ে কারও কোন দ্বিমত নেই। তবে যে আইন ৫০ বছরে হয়নি, তা করাটা সময়সাপেক্ষ। কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আইন প্রণয়নের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে। এর পরদিন নির্বাচন কমিশন আইনের একটি খসড়া মন্ত্রিপরিষদে পাস হয়। এরপর থেকেই রাষ্ট্রপতির সংলাপকে ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে এই আইন। তবে আমাদের আশাবাদ, তাড়াহুড়া করে আইন করতে গিয়ে যেন কোন ভুল না করা হয় বা এমন কিছু করা না হয়, যা ভবিষ্যতে কোনো বড় সমস্যা তৈরি করে।
সংসদে উত্থাপিত নির্বাচন কমিশন গঠন বিলে বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতোপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলী এবং উক্ত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলে গণ্য হবে এবং উক্ত বিষয়ে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।’ এই পয়েন্টটি নিয়ে বর্তমানে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোন কমিশন যদি পক্ষপাতিত্ব করে বা কোন অন্যায় করে, তাহলে তাদের ইনডেমনিটি দেওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে অনেকে। যদিও আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এরকম কোন ইনডেমনিটি দেওয়া হচ্ছে না, বাড়ানো হয়েছে আইনের আওতা।
জনগণের ভোটের সুযোগ ও সুষ্ঠু পরিবেশের ধারায় যে গণতান্ত্রিক সৌর্ন্দয্য, তা বিগত বেশ কিছু নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বললে ভুল হবে না। আমাদের আশাবাদ, নতুন আইন ও সেই আইনের মাধ্যমে তৈরি নতুন নির্বাচন কমিশন ভোট ভিত্তিক গণতন্ত্র সুসংহত করতে সচেষ্ট সফল হবেন।








