গতিময় ফুটবলের এক দলের বিপক্ষে অটুট রক্ষণের অভিজ্ঞ দলের লড়াই। তাতে জয়টা হল রক্ষণেরই। গঞ্জালো হিগুয়েনের জোড়া গোলে মোনাকোকে তাদেরই মাঠে হারিয়েছে জুভেন্টাস। ২-০ গোলের এই জয়ে কার্ডিফের ফাইনালের জন্য টিকিট প্রায় কাটা হয়ে গেছে ইতালিয়ান জায়ান্টদের।
বুধবার রাতে স্তাদে লুইসে শুরুতে অবশ্য দাপটটা ছিল স্বাগতিকদেরই। বোনুচ্চি-কিয়েল্লিনিদের মত অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারদের সামর্থ্যের পরীক্ষা নিয়েছেন এমবাপে-ফ্যালকাওরা। বিশেষ করে এমবাপে। বারবার হানা দিয়েছেন জুভেন্টাস রক্ষণে। ম্যাচের ১৩ মিনিটে এই ফরাসি তারকার মাথা ছুঁয়ে আসা বল লাফিয়ে পড়ে বাঁচিয়েছেন গোলরক্ষক বুফন।
মিনিট চারেক পর এমবাপের আরেকটি অসাধারণ আক্রমণ বাঁচাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বুফনকে। বয়সে প্রায় অর্ধেক এমবাপের আক্রমণ সামলাতে প্রথমার্ধের বেশ খানিকটা সময় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে অভিজ্ঞ জুভ গোলরক্ষককে।
মোনাকোর এত আক্রমণের পরও প্রথমার্ধে গোলের হাসিটা হেসেছে জুভেন্টাসই। ম্যাচের ২৯ মিনিটে নিজেদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়ায় পেনাল্টি সীমানা থেকে গঞ্জালো হিগুয়েনকে ব্যাকহিল করেন দানি আলভেজ। তা থেকে পাওয়া বলে বুলেটগতির শটে অতিথিদের আনন্দে মাতিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
মধ্যবিরতি থেকে ফিরে গোল শোধে মরিয়া মোনাকো শুরুতেই হামলে পড়ে জুভেন্টাস রক্ষণে। ৪৭ মিনিটে স্বাগতিক অধিনায়ক ফ্যালকাওয়ের দারুণ এক আক্রমণ আটকে গেছে বুফন দেয়ালে।
ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো। এসময় ইতালিয়ান মিডফিল্ডার ক্লোদিও মার্চিসিওর কোনাকুনি শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাসিচ।
পরে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে স্বাগতিক শিবিরে আরেকবার আঘাত হানেন হিগুয়েন। গোলের কারিগর সেই দানি আলভেজ। ডি-বক্সের ডানপ্রান্ত থেকে আলভেজের ক্রসে বল পেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত খোঁচায় মোনাকো গোলরক্ষক সুবাসিচকে পরাস্ত করে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টাইন তারকা হিগুয়েন।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মোনাকো চেষ্টা চালিয়ে গেছে ম্যাচে ফেরার। কিন্তু
বোনুচ্চি-কিয়েল্লিনি-আলভেজদের গড়া মহাপ্রাচীর পেরোতে পারলেও ফ্যালকাওরা বারবার আটকে গেছেন বুফন নামক ৪০ বছর বয়সী চীনের প্রাচীরে।
মোনাকোর মাঠ থেকে দারুণ এই জয়ে কার্ডিফের ফাইনালের জন্য টিকিট প্রায় কাটাই হয়ে গেল জুভেন্টাসের। অপেক্ষা শুধু ১০মে নিজেদের মাঠে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে সেটার পূর্ণতা দেওয়ার।







