ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফার আলোচনার কয়েক ঘণ্টা আগে সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আপস হবে না।
শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার বিকেলে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষ শনিবার বিকেলে আবারও আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে সিজেপি।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সরকার যদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে রাজি না হয়, তাহলে আলোচনার কোনো অর্থ নেই। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কোনো আপস হবে না।
সংগঠনটির তিনটি প্রধান দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
দ্বিতীয় দফার বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের দুটি দাবির বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে এখনও কোনো সমঝোতা হয়নি।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়তে থাকায় কেন্দ্র ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আইনে আরও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করতে সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষা সচিবকে অপসারণ, জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ) এর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। তবে এসব পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করছে না সিজেপি।
আশুতোষ রাঙ্কার দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় চূড়ান্ত রাজনৈতিক দায় শিক্ষামন্ত্রীর। তাই তার পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলনের দাবির সমাধান হবে না।







