শেষ বিকেলে সৌম্য সরকার একটা ‘আপারকাট’ করলেন। যা দেখে মনে হতেই পারে সারাদিন চনমনে ছিলেন। কিন্তু ভারতের স্কোর সে কথা বলছে না। সৌম্যদের ৬৮৭ রানের পাহাড়ে চাপা দিয়েছে বিরাট কোহলির দল। সৌম্য বলেই হয়তো এমন দিনে এভাবে ব্যাট চালাতে পারেন। তাই বলে তাতে সারাদিনের চিত্র ফুটে উঠছে না। এখনো ফলোঅন এড়াতেই দরকার ৪৪৭ রান।
দ্বিতীয় দিনের পরিস্থিতি বুঝতে কোহলির দ্বিশতকও খুব একটা কাজে আসবে না। তার যে ফর্ম চলছে, তাতে যে কোনো দিন এমন করতেই পারেন। তাহলে উপায়?
বাংলাদেশ সারা দিন কেমন কাটিয়েছে, সেটা বুঝতে হলে মুশফিকের ফিল্ডিং সাজানোর কথা স্মরণ করতে হবে। লাঞ্চের পর মুমিনুলকে একবার শর্ট লেগে আনেন। ভারত তখন পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে। নতুন ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা আর অশ্বিনকে আটকাতে মুশফিকের এই চেষ্টা। এই মুমিনুল দিনের শুরুতেও ওই শর্ট লেগে ছিলেন। মাঝখানে নিদাঘ দুপুরে দূরে সরে যান। তার মানে ওই সময়টাতেই কিছু একটা হয়েছে। এবার তাহলে সেই গল্পে চোখ রাখা যাক।
ওই দুপুরের ভেতর ভারত ৬২০ রান তুলে ফেলে। ওই দুপুর আসতে আসতে কোহলি ডাবল সেঞ্চুরি করেন। ওই দুপুর অনেক কিছু বলে গেছে। আর যেটা বলেনি সেটা- এমন দিনের পর বাংলাদেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।
এমন দুপুরের পর বিকেল নাগাদ সৌম্যর আউট আফসোস বাড়িয়েছে। ১৫ রানে থাকা অবস্থায় থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সাজঘরে ফেরেন তিনি। রিপ্লে দেখে মনে হচ্ছিল ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বল গেছে উইকেটের পেছনে। কিন্তু স্নিকো মিটার বললে উল্টোটা। আম্পায়ার জানান যাদবের বলে সৌম্য ‘আউট’!
এরপর মুমিনুল হককে নিয়ে দলীয় স্কোরটা ৪১ রানে টেনে দিন শেষ করেছেন তামিম ইকবাল। মুমিনুল ১ ও তামিম ২৪ রানে পরেরদিনের লড়াই শুরু করবেন।
এর আগে কয়েক ঘণ্টায় কোহলি দুটি জুটি গড়েন। রাহানেকে নিয়ে যোগ করেন ২২২ রান। আর ঋদ্ধিমান সাহার সঙ্গে ৩৯! রাহানে (৮৩) এদিন শর্টকাভারে মিরাজের চোখ জুড়ানো ক্যাচের শিকার হন। যা দেখে জন্টি রোডসেরও হিংসা হতে পারে! ঋদ্ধিমান সাহা ইনিংস ঘোষণার সময় ১০৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
কোহলি ১১১ রানে অপরাজিত থেকে শুক্রবার মাঠে নেমেছিলেন। থামেন ২০৪ রানে। এই নিয়ে টানা চার সিরিজে দ্বিশতকের রেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে টানা তিন সিরিজে এই কীর্তি গড়েছিলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান এবং রাহুল দ্রাবিড়।
সকালে তাসকিনের ওভারের পর সাকিবকে ডাকেন মুশফিক। এই দুই ওভারে আটটি বল খেলেন কোহলি। একবার ব্যাকফুটে লাফিয়ে ওঠা বলে ডিফেন্স করতে যেয়ে এদিক-ওদিক করে ফেললেন। ওই ‘ভুল’টা ছাড়া আর কোনো সুযোগ দেননি ভারত অধিনায়ক। ২৩৯ বলে ২৪টি চারের সাহায্যে ইনিংস সাজিয়ে ফেরেন।
হতাশার মাঝেও ৩ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের সেরা তাইজুল ইসলাম। মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি ও তাসকিন আহমেদের ঝুলিতে একটি করে উইকেট। সাকিব আল হাসান ২৪ ওভারে ১০৪ রান দিয়ে উইকেটহীন।
বৃহস্পতিবার ৩৫৬ রানে দিন শেষে করেছিল ভারত। প্রথম দিনে বাংলাদেশের বোলাররা প্রথম ১৫ ওভার পর্যন্ত ছন্দেই ছিলেন। ওই সময় পর্যন্ত ঠিক জায়গায় বল পড়ছিল। বেশ কয়েকটি ডেলিভারি পূজারা-বিজয়ের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যায়। একটি রান-আউটের সুযোগও হাতছাড়া হয়। দুটি ক্যাচের সম্ভাবনা জাগে। বড় ম্যাচে এই সব সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ফলাফল ভয়ঙ্কর হয়। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে গতকাল ঠিক সেটাই হয়। যার খেসারত দিতে হল দ্বিতীয় দিনেও। এদিনও ক্যাচ ফেলেছেন ফিল্ডাররা। সহজ স্টাম্পিং মিস করেছেন মুশফিক।
এই পরিস্থিতিতে ম্যাচের ভাগ্য কী হতে পারে? এমন প্রশ্ন কারো মনে জাগলে উত্তর পেতে ব্যাটসম্যানদের মুখ চেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। যে উইকেটে প্রতিপক্ষ হেসেখেলে ব্যাট চালায়, সে মাটি রিয়াদদের জন্য প্রায়ই হয়ে ওঠে ‘বিষাদ ভূমি’। অতীতে এমন অনেক চিত্রর সঙ্গেই পরিচিত টাইগারপ্রেমীরা।
ইতিহাস তুমি দূরে যাও। এই প্রার্থনায় বসতে পারে বাংলাদেশ!







