সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বৈশাখী বোনাস হিসেবে ৩১৭ কোটি টাকা পেলেও বাজারে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে লেনদেন হয়েছে তার কমপক্ষে ১০ গুণ। গত প্রায় এক দশক ধরে বৈশাখী বাজার ফুলে-ফেঁপে উঠলেও এবার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে বিশেষ বোনাস বাজারকে আরো সমৃদ্ধ করেছে বলে উদ্যোক্তা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এবারের বৈশাখী বাজারের বেচাকেনা নতুন রেকর্ড করেছে মন্তব্য করে তারা বলেছেন, বাংলাদেশে ফ্যাশন শিল্পে মোট বিক্রির অর্ধেক বিক্রি হয় রোজার ঈদে। মধ্যবিত্তের বিকাশের সঙ্গে এখন ২৫ ভাগ বিক্রি হয় পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে। এবার সেটাও অতিক্রম করে গেছে।
ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আজহারুল হক আজাদ চ্যনেল আই অনলাইনকে বলেন, গত বছর মন্দা কাটিয়ে বৈশাখে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো বেচাকেনা হয়েছিলো। ‘এবার তার চেয়েও বেশি বিক্রি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি।’
তার মতোই বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, মূলতঃ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বৈশাখী বোনাস অন্য সময়ের চেয়ে এবারের বৈশাখী বাজারকে শক্তিশালী করেছে।
‘এক কথায় সব ক্ষেত্রেই বেচাকেনা ছিলো অভাবিত,’ বলে দাবি করেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু সরকার যে তার কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মূল বেতনের ২০ ভাগ বৈশাখী বোনাস দিয়েছে এমন নয়, সরকারের মতো বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও বোনাস দিয়েছে যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। আর বেশিরভাগের জন্য বৈশাখী বোনাস না থাকলেও গত কয়েক বছরে বাঙালি মধ্যবিত্ত বৈশাখের জন্য আলাদা বাজেট রাখার অভ্যাস গড়ে তুলেছে যার মাত্রা ও পরিমাণ দুটোই বাড়ছে।
ব্যাংকিং সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, গত এক সপ্তাহে ব্যাংকগুলোতে সাধারণ সময়ের চেয়ে দুই হাজার থেকে ২২শ কোটি টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে।
নগদ এ লেনদেনের সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডেও বেচাকেনা হয়েছে অনেক। তবে, সামগ্রিকভাবে পরিমাণটা হিসাব করতে একটু সময় লাগবে বলে ব্র্যাক ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তবে ব্যাংকাররা বলেছেন, আগে যেমন কোরবানির ঈদে বা এরকম উপলক্ষে মুদ্রা বাজারে টানাটানি পড়ে যেতো এখন সেটা হয় না।
‘এর কারণ আমাদের অর্থনীতি। আমাদের অর্থনীতি বড় হচ্ছে, অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে; সেটা এরকম বিশেষ সময়েও আমরা বুঝতে পারি,’ বলে মন্তব্য করেন ব্যাংক কর্মকর্তা শিবলী সাদেক।
অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধিও হয় উল্লেখ করে বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, সাধারণতঃ যে কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বিক্রি আগের বছরের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ভাগ বাড়লে ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট থাকেন।
আগের দুই বছর এরকম সময়গুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিলো। তারপরও গত বছর বৈশাখের বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো প্রায় ২০ ভাগ। এবার তা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এবং ফ্যাশন হাউস ‘সাদাকালো’র উদ্যোক্তা আজহারুল হক আজাদ।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, বৈশাখে যে শুধু ফ্যাশন হাউসগুলোই বাণিজ্য করে এমন নয়। এর সঙ্গে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মিষ্টির দোকান পর্যন্ত প্রায় সবকিছুই সম্পৃক্ত। জড়িত আছে আরো অনেক শিল্প।
‘মানুষের ফ্যাশন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবকিছুর বাজারই বৈশাখে ভালো ব্যবসা করে। সেটা শুধু ঢাকা শহরে না, বৈশাখী বাজার গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শহরে যেমন মিডিয়া এবং ছাপাখানা শিল্পে বৈশাখে বাড়তি বাণিজ্য করে তেমনি গ্রামে-গঞ্জে আছে গ্রামীণ মেলা। এ সবকিছুর সঙ্গেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জড়িত।
‘অার এবার অনেক এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলায় সেটা আরো শক্তিশালী হয়েছে,’ বলে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মন্তব্য করেছেন নেত্রকোণার পূর্বধলা বাজারের ক্ষুদে ব্যবসায়ী আহমদ আলী।










