তার আপন মামা সৈয়দ মইনুল হোসেন। নামটি নিশ্চয় চেনা লাগছে বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি। তার মায়ের মামা অর্থাৎ সম্পর্কে নানা হন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার। আর এখন তিনি নিজের পরিচয়ে উদ্ভাসিত। ৪০ বছরের যুবক। জিতেছেন দুইবার অস্কার। সর্বশেষ ‘পাইরেট অব ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড এন্ডস’ এ অস্কার জেতা তরুণের নাম নাফিস বিন জাফর।
চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সৃজনশীল হলে বেঁচে থাকা যায়।
সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে সিগ্রাফ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বে অংশ নেন নাফিস বিন জাফর। সে সময় প্যানেল আলোচক ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং ‘আয়নাবাজি’ নির্মাতা অমিতাভ রেজা। স্কাইপেতে কানাডার ভ্যাংকুভার থেকে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ওয়াহিদ ইবনে রেজা।

আলোচনা পর্বে নাফিস বলেন, ‘বাবা মা চেয়েছিলেন ডাক্তার হই। পরীক্ষাও দিয়েছিলাম। একটি সময় গিয়ে বাবা মাকে জানাই আমার দ্বারা হবেনা। আমি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যেতে চাই। তারা কষ্ট পেয়েছিলেন ঠিক তবে সহায়তাও করেছিলেন। বিশেষ করে বাবা। সৃষ্টিশীলতা ভেতরে থাকে। এটা আসলে তৈরী করা যায়না। উপলব্ধি করা যায়। ডাক্তার বা অ্যাকাউন্টেন্ট আপনি হয়ে উঠতে পারবেন। সবার জন্য ক্যারিয়ার সৃজনশীলতা নয়। আমি খুব সৌভাগ্যবান যে আমি উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম আমার সৃজনশীলতার জায়গা। তবে পরবর্র্তী প্রজন্মকে সৃজনশীলতায় উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব। মানে, আমি যা করতে পারিনি আগামীকে সে দিকে আগ্রহী করা। সহায়তা দেওয়া। নিরন্তর চর্চায় থাকতে হবে।’
পরে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে স্বল্প সময়ের একান্ত কথোপকথনে তিনি উৎসাহ বিষয়ক প্রশ্নে বলেন, আমি আমার ফ্যামিলিতে অনেক ক্রিয়েটিভিটি দেখেছি। অ্যাজ এ প্রফেশন। আমার আপন মামা জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি ছিলেন।আরো অনেকে ছিলেন। সেজন্য আমি একদিক দিয়ে মেন্টালি জানি ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে লিভিং করা যায়। ওটাই আসলে উৎসাহ বা অনুপ্রেরণা যাই বলুননা কেন আমার জীবনে দাড়িয়েছে।হাসতে হাসতে তিনি বলেন, আমি ছোট বেলায় বিল্ডিং আঁকতে খুব পছন্দ করতাম। সব মিলিয়ে আমার শৈশবের অনুপ্রেরণা পরিবারের সৃজনশীলতা।’ ‘এ মুহুর্তে কোন বিষয় নিয়ে কাজ করছেন?’ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ মুহুর্তে আমি খুব কৌতুহল ভরে ভার্চুয়াল ডিজিটাল চরিত্র নির্মাণে সচেষ্ট আছি। যে চরিত্রগুলোর মুখের গঠন আসল মানুষের মত হবে। তাদের চলা ফেরা ভার্চুয়াল জগতে হলেও সত্যিকারের মানুষের মত হবে। চোখের চাহনি আসলের মত মানে প্রায় জীবন্ত।বিশ্বাসযোগ্য হবে। যা আমার জন্য বর্তমানের বড় চ্যালেঞ্জ।
‘সিগ্রাফ’-এর অনুষ্ঠানে এসে নাফিস কথা বললেন ‘চ্যানেল আই অনলাইন’-এর সঙ্গেও:
ছবি ও ভিডিও: সাকিব উল ইসলাম









