জাতির উদ্দেশে দেয়া টেলিভিশন ভাষণে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেতা অং সান সু চি বলেছেন, তার দেশ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমালোচনা ও নিন্দায় ভীত নয়। অধিকাংশ মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে যায়নি এবং রাখাইনে সহিংসতা থেমে গেছে। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার পক্ষে আপাতত যাওয়া সম্ভব নয় বলেই এই ভাষণটি দিচ্ছেন বলে সু চি জানান। তিনি আরও বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানানোই এই ভাষণের উদ্দেশ্য। সু চি তার বক্তব্যে সকল সম্প্রদায়ের মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব সম্প্রদায় ও ধর্মের মানুষের সুরক্ষা কথা বলেছেন। সু চি দাবি করেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনাকালে মানবাধিকার রক্ষায় সব নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জনগণের সম্পত্তি রক্ষা এবং নিরপরাধ মানুষের হয়রানি-নির্যাতন বন্ধে সব ধরণের পদক্ষেপের ঘোষণা দেন তিনি। সু চির আজকের এই ভাষণ আমাদের বিষ্মিত করেছে। আমরা দেখছি, তার অবস্থান বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। এছাড়া সারাবিশ্বের অনুরোধ, উপদেশ ও জাতিসংঘের নির্দেশকে ভয় করে না মিয়ানমার বলে শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চি যে বক্তব্য দিয়েছে; তাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছেন বলে আমরা মনে করি। ২৫ আগস্টের পরে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা বাংলাদেশে এসে বিশ্বগণমাধ্যমে যে অত্যাচার আর পরিস্থিতির কথা বলেছে, তাতে সারাবিশ্বের মানবিক সব মানুষকে কাঁদিয়েছে ও ভাবাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সু চির ভাষণ কোন আশা হয়ে আসেনি। এটা নোবেল জয়ী একজন নেত্রী ও মানবতার জন্য লজ্জার বলে আমরা মনে করি। উদ্ভূত প্রেক্ষাপটে সবাই মিয়ানমান তথা সু চির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।








