বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে আজ রাত ৮টায় একান্ত বৈঠকে বসবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ বৈঠক নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিএনপি’র শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তা স্পষ্ট হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি নেতারা অবশ্য তা স্বীকার করতে রাজি নন।
জানতে চাইলে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: এই বৈঠক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এর আগেও সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
‘ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র। সে দেশের প্রতিনিধি আসবেন আর আমাদের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন, সাক্ষাত করবেন এটি তো একেবারেই স্বাভাবিক একটা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। এর আগে নরেন্দ্র মোদী এসেও ম্যাডামের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। কাজেই এতে আলাদা কিছু ভাবার সুযোগ নেই,’ বলে দাবি করেন তিনি।
তবে বিএনপির মধ্যে এক ধরনের যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে সে বিষয়ে তিনি বলেন: আমাদের নেতাকর্মীরা তো আগে থেকেই উৎসাহিত। সরকারের নিজস্ব যে জরিপ, যাতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৫০ বা ৬০ টির বেশি আসন পাবে না– সেই তথ্য জানার পর থেকেই তো আমাদের নেতাকর্মীরা উৎসাহিত।
‘যেদিন থেকে আওয়ামী লীগের শেষ সময় চলে আসছে বলে আমরা বুঝতে পেরেছি সেদিন থেকেই নেতাকর্মীরা উৎসাহিত। সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে বলে নতুন করে উৎসাহিত হওয়ার কিছু নেই তো,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি’র শুভাকাঙ্খী হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, তিনি খালেদা-সুষমা বৈঠককে অন্যান্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে বৈঠকের মতোই দেখছেন।
‘এই বৈঠকের আলাদা কোন বিশেষত্ব আছে বলে মনে করি না। আর উৎসাহ-উদ্দীপনার মতোও কিছু নেই।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য বলছেন: এটি স্বাভাবিক একটি বৈঠক। এখানে উৎসাহ-উদ্দীপনার কিছু নেই। আর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে কারা এতো উৎসাহিত তা আমার জানা নেই। যারা উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখাচ্ছেন আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলুন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও বলছেন, এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাতমাত্র।
‘তার সঙ্গে আমাদের চেয়ারপারসনের আগেও দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। সফররত রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’
আগামী নির্বাচন নিয়ে কি কোন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ঠিক করে বলা যাবে না। তবে আমি মনে করি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হতে পারে। রোহিঙ্গা সমস্যায় ভারতের অবস্থান বিষয়ে কথা হবে। এছাড়া দেশে বিরাজমান নানা ইস্যুতেও আলোচনা হবে।
বৈঠককে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনার কথা বলা হচ্ছে সেটিকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বলছেন, এখানে উৎসাহিত হওয়ার মতো কিছু নেই।
রাতের বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহউদ্দীন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
এ বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হবে বলে আশা করছেন দলের মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েই আলোচনা হবে।
রোববার দুপুরে বিশেষ বিমানযোগে ঢাকা পৌঁছান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। কুর্মিটোলায় বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটিতে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।
বিকাল ৪টায় হোটেল সোনারগাঁও-এ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিটির (জেসিসি) বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন সুষমা স্বরাজ। রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নৈশভোজে যোগ দেবেন।
এছাড়া সফরে সুষমা স্বরাজ ভারতের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার একটি প্রকল্পও রয়েছে।
এর আগে, ২০১৪ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন সুষমা স্বরাজ। সে সময়ও সোনারগাঁও হোটেলে সুষমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন খালেদা জিয়া।







