এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
যুক্তরাজ্যে এক বছরে বিবিসির টিভি লাইসেন্সের সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার কমেছে। বিবিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে সক্রিয় টিভি লাইসেন্সের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাইসেন্সের এই পতনের মূল কারণ হলো ক্রমবর্ধমান সংখ্যক পরিবার এখন আর এমন টেলিভিশন বা অনলাইন কনটেন্ট দেখছে না, যার জন্য টিভি লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। একই সময়ে লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই বলে ঘোষণা দেওয়া পরিবারের সংখ্যা ৬২ হাজার বেড়ে ৩৭ লাখে পৌঁছেছে।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সক্রিয় লাইসেন্সের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৮ লাখ। আর চলতি দশকের শুরুতে এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫৯ লাখ। অর্থাৎ, গত কয়েক বছরে বিবিসির টিভি লাইসেন্সের সংখ্যা ২৫ লাখেরও বেশি কমেছে।
বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিবিসির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা বেরাঞ্জের মিশেল বলেন, লাইসেন্স কমার প্রধান কারণ মানুষের দেখার অভ্যাসে পরিবর্তন। অনেকেই এখন এমন কনটেন্ট দেখছেন না, যার জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও দ্রুত বাড়বে। এ কারণেই বিবিসি তাদের অর্থায়ন ব্যবস্থার সংস্কার চায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বিবিসির আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। লাইসেন্স বিক্রির আয় প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত হারে কমেছে। এর সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কঠিন বাণিজ্যিক পরিবেশ আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়েছে।
গত এক দশকে লাইসেন্স ফি থেকে বিবিসির আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় ছিল ৫২১ কোটি পাউন্ড, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেমে এসেছে ৩৮৭ কোটি পাউন্ডে। ফলে এক দশকে আয় কমেছে ১৩৪ কোটি পাউন্ড বা প্রায় ২৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে লাইসেন্স ফি থেকে আয়ের ওপর অব্যাহত চাপ, ক্রমবর্ধমান প্রযোজনা ব্যয় এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল গণমাধ্যম বাজারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
বিবিসির মহাপরিচালক ম্যাট ব্রিটিন বলেন, এটি শুধু বিবিসির জন্য নয়, বরং জনস্বার্থভিত্তিক সম্প্রচার ব্যবস্থা এবং পুরো যুক্তরাজ্যের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়। তার মতে, জনসেবা, অর্থনৈতিক প্রভাব, জাতীয় স্বার্থ এবং মূল্যবোধের ক্ষেত্রে বিবিসির প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য বিবিসিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থায়ন ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে বিবিসির পক্ষে বর্তমান জনসেবামূলক কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
যদিও প্রতি মাসে যুক্তরাজ্যের ৯৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক কোনো না কোনোভাবে বিবিসির সেবা ব্যবহার করেন, তবুও ৮০ শতাংশের কম পরিবার লাইসেন্স ফি পরিশোধ করে।
গত মাসে বিবিসি সংবাদ, আঞ্চলিক কার্যক্রম এবং কনটেন্ট বিভাগে ব্যয় সাশ্রয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্যের মধ্যে ১৬ কোটি পাউন্ড অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবিসির চেয়ারম্যান সমীর শাহ বলেন, বার্ষিক প্রতিবেদনটি ভবিষ্যৎ অর্থায়নসহ প্রতিষ্ঠানটির সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। তার মতে, বর্তমান অর্থায়ন কাঠামোতে বিবিসির জনসেবামূলক মিশন দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, নতুন চার্টার এমন হতে হবে যাতে বিবিসি একটি সর্বজনীন জনসেবামূলক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। তার ভাষায়, বিবিসি শুধু একটি সম্প্রচারমাধ্যম নয়, এটি যুক্তরাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসম্পদ। সমাজ, অর্থনীতি এবং গণতন্ত্রের জন্য এটি অনন্য অবদান রেখে চলেছে।







