সিরিয়ার আলেপ্পোতে ত্রাণবাহী ট্রাকবহরে হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দু’টো রুশ যুদ্ধবিমান হামলাটি চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
সোমবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্টের ওই ত্রাণবাহী ট্রাকবহরে বিমান হামলায় ৩১ টি ট্রাকের মধ্যে ১৮ টি ট্রাকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হোয়াইট হাউজ বলেছে, হামলাটি ‘মানবতায় ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’।
তবে রাশিয়া এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেছে, হামলাটির সঙ্গে রুশ বা সিরীয় বিমানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দেশটির দাবি, ট্রাকবহরে স্থলভিত্তিক অস্ত্র থেকে হামলা চালানো হয়েছে, বিমান থেকে নয়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আকাশ থেকে বোমা ফেললে ট্রাকগুলোতে বা তার কাছাকাছি যেমন গর্ত বা ট্রাকের বাইরের গঠনে যে ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা তেমন কিছুই নেই।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে করা দাবি সমর্থনের জন্য ‘কোনো প্রমাণ নেই’ বলেও উল্লেখ করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।
সোমবারের ওই আক্রমণের ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়। ট্রাকবহরটি আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিল। এরপর থেকে রেডক্রসের ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দেইড় আল জৌর শহরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৬২ জন সিরীয় সেনা নিহত হওয়ার পর যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসে সিরিয়া। সিরিয়ার সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই হামলা হয়।
আলেপ্পো এবং রাজধানী দামেস্কের উপশহরগুলোতে যুদ্ধ ছড়িয়ে যাওয়ায় রুশ-মার্কিন উদ্যোগে করা যুদ্ধবিরতিটি কার্যত ভেঙে পড়ে। সেখানে বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণও চলছে। এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই রুশ-মার্কিন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙ্গে গেছে। এ জন্য বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সিরিয়ার সরকার।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের মাঝেই শান্তি চুক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কথা হয়েছে। রুশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন-রুশ যুদ্ধবিরতি ‘অর্থহীন’ কারণ বিদ্রোহীদের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেই।







