শুরুর এলোমেলো বোলিং। শেষে তাসকিনের হ্যাটট্রিক ঝলক। মাঝখানে লঙ্কানদের দ্বিতীয় উইকেট জুটির ১১১ রান। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ওয়ানডের হাইলাইটস এটি। ওই জুটির ওপর দাঁড়িয়ে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩১২ রানের টার্গেট দিয়েছে লঙ্কানরা।
এই ম্যাচ জিততে হলে বাংলাদেশকে রেকর্ড গড়তে হবে। রণগিরি মাঠে তো বটেই, শ্রীলঙ্কার মাটিতেই ২৯০ রানের বেশি তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই কোন দলের। সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটি ২৮৯! ২০০৯ সালে পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেওয়া ওই লক্ষ্য পেরোতে ৪ উইকেট খরচ করেছিল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ কতটা পথ পার হতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৩১৮ রান তাড়া করে জেতার নজির আছে। সেটা গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা। নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল টাইগাররা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রান তাড়া করে বাংলাদেশের বড় জয় পাঁচ উইকেটের। ঢাকায়, ২০১২ সালের ২০ মার্চ এশিয়া কাপে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৩২ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। এরপর ম্যাচে বৃষ্টি হানা দেয়। পরে টাইগারদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ২১২ রান। তামিমের ৫৯, সাকিবের ৫৬ ছাড়াও শেষদিকে নাসিরের ৩৬ ও মাহমুদউল্লাহর ৩২ রানে ৫ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।
মেন্ডিসের শতকে বাংলাদেশ মঙ্গলবার ব্যাকফুটে চলে যায়। থারাঙ্গা করে যান ৬৫ রান। ৩৫ ওভারের ভেতর এভাবে ২০০ রান তুলে ফেলে লঙ্কানরা। ওই দ্বিতীয় উইকেট জুটটিই বাংলাদেশের বেশি ক্ষতি করেছে। এই জুটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সরাসরি থ্রো’তে থারাঙ্গাকে ফেরান।
পঁচিশতম ওভারের চতুর্থ বলটি ইয়র্কার মারতে চেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। সেটি হাফভলি বানিয়ে ফিজের মাথার উপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান উপুল থারাঙ্গা। মোস্তাফিজের মুখে এমন হতাশা নামে, যা খুব একটা তার মাঝে দেখা যায় না। পরের বলটি করেন লেগ সাইডের অনেক বাইরে। সঙ্গে বিমার। আম্পায়ার নো ডাকেন। রানের জন্য ছোটেন থারাঙ্গা-মেন্ডিস। রিয়াদ বল ধরেই থারাঙ্গার (৬৫) দিকের স্টাম্প ভেঙে দেন।
এর আগে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। স্লোয়ার শর্ট বলে গুনাথিলাকা (৯) পুল করেছিলেন। ঠিকমতো ব্যাটে নিতে ব্যর্থ হন। কিপিং থেকে ফাইন লেগের দিকে অনেকটা দৌড়ে ঝাঁপানো ক্যাচ নেন মুশফিক।
বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে কেউ সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। সাকিব ১০ ওভারে ৫৯ রান খরচ করে কোন উইকেট পাননি। মাশরাফি ৫৫ রান দিয়ে এক উইকেট নিতে পেরেছেন। মিরাজও ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন। খরচ করেছেন ৫০ রান। মোস্তাফিজ ৮ ওভারে ৬০ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন।
ইনিংসের শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক করেন তাসকিন। নুয়ান প্রদীপ, সুরঙ্গা লাকমল এবং আসিলা গুনারত্নেকে ফেরান তিনি। ৮.৫ ওভার বল করে ৪৭ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার।







