সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র আড়াই দিনেই আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা খুব বাজেভাবেই শেষ করল টাইগাররা। এমন হারে মুশফিকরা সিরিজের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া সাফল্যের আনন্দ আর আত্মবিশ্বাসটাও হারাল বলে মন্তব্য ক্রীড়া বিশ্লেষক ফরহাদ টিটোর।
ম্যাচ শেষে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে টিটো লেখেন, ‘সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে এই টেস্ট সিরিজটায় যতোটা হারল বাংলাদেশ, তারচেয়ে বেশি হারাল। এই হারানো প্রতিপক্ষকে না, অদূর অতীতে নিজের পাওয়া সাফল্যের আনন্দ ও আত্মবিশ্বাসকে।’
লিখেছেন, ‘টসে জিতেও নেগেটিভ মাইন্ডসেট, অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের টেস্ট খেলার স্কিল, টেকনিক, সংযম ভুলে যাওয়া… সত্যিই বিস্ময়কর! সিরিজ হারাটা মোটেও অপ্রত্যাশিত ছিল না, তবে প্রচণ্ড অপ্রত্যাশিত ছিল এইভাবে আত্মসমর্পণ! যে পিচে স্বাগতিকদের অদু-মদু-যদুও সেঞ্চুরি মারতে পারে সেই পিচে দাঁড়াতেই পারে না আমাদের অভিজ্ঞ স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যানরা।’
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে টিটো লেখেন, ‘আমরা আসলে গত বছর দুয়েক টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে দেখতে থাকা আমাদের স্বপ্নটাকে আপাতত হারিয়ে ফেললাম। এরপর কবে আবার টেস্টের মতোই টেস্ট খেলতে পারবে আমাদের দল জানি না, তবে সেই আশায় থাকলাম।’
‘আর… প্লিজ বলবেন না, ড্রেসিং রুমে, ক্রিকেট বোর্ডের ভিতরে সন্দেহজনক, অশুভ কিছু ঘটছে বলেই এমন হচ্ছে! এইসব ফালতু কথা, প্লেয়ারদের চামড়া বাঁচানোর জন্য এগুলো খোঁড়া যুক্তি। ব্যাটসম্যান হয়ে আপনি যখন সোজা আসতে থাকা বলের বিহাইন্ড দ্য লাইনে না গিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে খোঁচা মারবেন, হাল্কা-পাতলা বাউন্সারকে মনে করবেন মিসাইলের মতো ভয়ংকর কিছু.. Duck না করে অথবা সরার চেষ্টা না করে ব্যাট-গ্লাভস দিয়ে মুখ বাঁচাতে চাইবেন অথবা দলের বিপর্যয়েও ধৈর্য্য না ধরে ফ্রি স্টাইলে ব্যাট চালাতে থাকবেন; তখন গিরিংগীহীন, শান্তিময় পৃথিবীর সেরা ম্যানেজমেন্টের অধীনে খেলার সুযোগ পেলেও কাজ হবে না… দলের বারোটা আপনি বাজাবেনই!’ লিখেছেন টিটো।
স্ট্যাটাস শেষ করেছেন এই বলে, ‘মনে রাখবেন, দুই টেস্টে আমাদের চার ইনিংসে তিনবার মুড়ির মতো উইকেট পড়ার পিছনে যতটা দায়ী আফ্রিকানদের ভালো বোলিং তারচেয়ে অনেক অনেক বেশি আমাদের ব্যাটসম্যানদের অ-টেস্ট টাইপ দায়িত্বহীন ব্যাটিং। আত্মবিশ্বাসহীন ক্যাপ্টেন্সি আর সাদামাটা বোলিং অ্যাটাক আসবে তারপর।’










