ওয়ার্মআপ শেষ হতেই ক্রিকেটারদের কাজগুলো বুঝিয়ে দিলেন হেড কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে। হোয়াইট বোর্ডে লেখা নির্দেশনা মনোযোগ সহকারে বুঝে নিলেন তামিম-সৌম্য, মিরাজ-মোস্তাফিজরাও। ঘড়ির কাঁটা তখন দশটা ছুঁইছুঁই। প্রখর রোদে ক্রিকেটারদের মুখগুলো চকচক করছিল। খানিক পরই নিকষ কাল অন্ধকার নেমে এল সেস্থানে। মুহূর্তেই যে মেঘ জমে গেছে পূব আকাশে। সেই মেঘ বৃষ্টি হয়ে মিরপুরের সবুজ গালিচায় ঝরল টানা এক ঘণ্টা। ভেস্তে গেল অনুশীলনের সব পরিকল্পনা। এমন ভেস্তে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে হতে পারে সিরিজজুড়েই।
আট মাস ধরে চলা সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর বুধবারই প্রথম মিরপুরের সেন্টার উইকেটে অনুশীলন করার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের ভেন্যুতে ‘ম্যাচ পরিস্থিতি’ অনুযায়ী অনুশীলনের রণকৌশলও সাজিয়েছিলেন কোচ। ড্রেসিংরুমে ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত বাতিলই করা হয় দিনের বাকি অনুশীলন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের মাঝেও বৃষ্টি যে হানা দেবে তারই যেন বার্তা দিয়ে গেল প্রকৃতি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে যে পূর্বাভাস মিলেছে, তাতে পুরো সিরিজজুড়েই রয়েছে বৃষ্টির শঙ্কা। বর্তমানে যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে সেটা ১৭ আগস্ট কমে যাবে।

এরপর ২২ আগস্ট থেকে আবারও হালকা-মাঝারি ধরণের বৃষ্টি শুরু হবে। টানা সাতদিন হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি। ২২-২৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে বিসিবি একাদশের খেলার কথা দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। আর ২৭-৩১ আগস্ট মিরপুরে হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। সেই ম্যাচের শুরু হতে পারে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই। থাকবে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার শঙ্কাও। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টের সময়ও (৪-৮ সেপ্টেম্বর) বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃষ্টির কারণে সেভাবে অনুশীলন হয়নি বাংলাদেশের। ১০ জুলাই ক্যাম্প শুরুর পর প্রথম তিন সপ্তাহ কেটেছে ফিটনেস অনুশীলনে। ব্যাট-বলের স্কিল ক্যাম্প শুরু হয় চলতি মাসের শুরুতে। তাতেও বাধ সাধে বৃষ্টি। ভেজা মাঠে ফুটবল খেলে কাটান ক্রিকেটাররা। বেশিরভাগ সময় অনুশীলন করতে হয়েছে ইনডোরে।
বাধ্য হয়েই চট্টগ্রামে সাতদিনের ক্যাম্প করে বাংলাদেশ দল। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের সেন্টার উইকেটে টানা তিনদিন অনুশীলন করেন মুশফিক-তামিমরা। একদিন বিরতির পর শুরু হওয়া তিনদিনের অনুশীলন ম্যাচ, তাতেও বাধ সাধে বৃষ্টি। একটি করে সেশন নষ্ট হয় প্রথম দুদিন। শেষ দিন ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

ইনডোরের বাইরে বাংলাদেশ দলের জুতসই অনুশীলন বলতে চট্টগ্রামের ক্যাম্প। কিন্তু সিপিএল খেলতে যাওয়ায় ওই ক্যাম্পে ছিলেন না সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। চোখে আঘাত পাওয়ায় যেতে পারেননি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে প্রস্তুতি তাই কমই হতে যাচ্ছে স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ তিন সদস্যের।










