রোববার বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে জড়িতদের বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে টানা আন্দোলন করছে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া পুলিশকে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা আমরা দেখেছি।
কিন্তু, আন্দোলনের চতুর্থ দিন বুধবার দৃশ্যপটে হাজির হয়ে একাধিক স্থানে তাদের ওপর হামলা শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরা। শুরুটা সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায়। সেখানে যানবাহন ভাঙচুরের প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে নারায়ণগঞ্জে পরিবহন শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। পিটিয়ে আহত করে কয়েকজনকে। আমরা জানতে চাই, এর নেপথ্যে কে বা কারা আছেন? যারা দায়ী তাদেরকে কেন বিচারের আওতায় আনা হবে না?
রাজপথে নামা শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগরের পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। বুধবার তিনি বলেছেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পুলিশকে ধৈর্য ধরতে হবে।
আমরা জানি, এই আন্দোলন শুরুর পর প্রতিদিনই জনদুর্ভোগ হয়েছে। নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। কিন্তু তারা এই কষ্ট হাসি মুখে সয়েছেন বলেই আমাদের মনে হয়েছে।
রাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের শার্টের কলার ধরা কিংবা তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অধিকার কারোরই নেই। সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক মন্তব্য করে ঘটনার জড়িতদের বিচারের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তাদেরকে অনুরোধ করেছেন, রাজপথ ছেড়ে ক্লাসে ফিরে যেতে।
তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খেয়াল রাখতে হবে, কোনো পরিস্থিতেই এসব শিশু-কিশোরদের ওপর যেন হামলা না হয়। আমরা মনে করি, ধৈর্য ধরে এই পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করতে হবে।








