যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিষয়ে ইরানের দাবি ও আপত্তিগুলো তুলে ধরেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সাম্প্রতিক যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইসলামাবাদে নতুন করে উদ্যোগ নেয়ার মধ্যে এই দাবির কথা জানালেন আরাঘচি।
যদিও আলোচনার বিস্তারিত জানানো হয়নি, আরাঘচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। হোয়াইট হাউস এর আগে ঘোষণা করেছিল যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানের রাজধানীতে যাবেন, কিন্তু ইরান এখন পর্যন্ত নতুন করে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে, কারণ ইরান হরমুজ প্রণালী প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে, যে পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে বাধা দিচ্ছে।
ইরানের সাথে মার্কিন-ইসরাইলি সংঘাতটি এখন নবম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, এবং যুদ্ধবিরতিটি এই সপ্তাহে ট্রাম্প বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এই যুদ্ধ জ্বালানির দামকে বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে উস্কে দিচ্ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ম্লান করে দিচ্ছে।
মন্ত্রীর দাপ্তরিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, আরাঘচি যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি সম্পর্কিত সর্বশেষ ঘটনাবলীর বিষয়ে আমাদের দেশের নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। আলোচনায় মার্কিন অবস্থান নিয়ে তেহরানের আপত্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে, ইসলামাবাদে অবস্থিত একজন ইরানি কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে বলেন: ‘নীতিগতভাবে, ইরানি পক্ষ ম্যাক্সিমালিস্ট (চরমপন্থি) দাবি মেনে নেবে না।
এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, ইরানের একটি ভালো চুক্তি করার সুযোগ রয়েছে। আরাঘচি শুক্রবার ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন না এবং তেহরানের উদ্বেগ মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে জানানো হবে।
এদিকে, ট্রাম্প শুক্রবার রয়টার্সকে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দেয়ার পরিকল্পনা করছে, কিন্তু সেই প্রস্তাবে কী কী অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা তিনি জানেন না। ওয়াশিংটন কার সঙ্গে আলোচনা করছে তা বলতে তিনি অস্বীকৃতি জানালেও, বলেন, ‘তবে আমরা এখন যারা দায়িত্বে আছেন তাদের সঙ্গেই কাজ করছি’।








