দৈনিক পত্রিকার চিঠিপত্র কলামই ক্লাসিক্যাল সিটিজেন জার্নালিজম
১.
গুজবপ্রিয় বাঙালি যখন সংবাদে সত্যতা খুঁজে খুঁজে হয়রান, তখন সংবাদ মাধ্যম কিনে নিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। যখন নিউজ ইন্ডাস্ট্রিতে রূপ নিলো, তখনই প্রশ্ন এলো বিনিয়োগের; লাভ-ক্ষতির অংক কষাও শুরু হয়ে গেলো ব্যবসায়ীর মোকামে-গদিতে।
২.
গণমাধ্যম এখন আর গণমানুষের হাতে নেই। ব্যবসার খাতিরে গণমাধ্যম তা-ই দেখানোর কথা ছিল, গণমানুষ যা দেখতে চায়। বাংলাদেশের টিভি স্ক্রিনগুলোতে আপনি তা-ই পাবেন, মালিক বা স্পন্সর কোম্পানিগুলো আপনাকে দেখাতে চায়। কোনও ব্যক্তি অযৌক্তিক কথা বললে, এমনকি তার মস্তিষ্ক বিকৃতি থাকলেও তার মত প্রকাশের অধিকার আছ বটে। তবে গণমাধ্যম নয়, অন্য যে কোনো উপায়ে তার অধিকার নিশ্চিত করা হউক।
৩.
গণমাধ্যম হলো সমাজের আয়না। এটা যখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ইন্ডাস্ট্রি হয়ে উঠলো, ম্যানিপুলেট করে কেউ কেউ এটাকে কোনও ব্যক্তি বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আয়না বানিয়ে ফেললো। গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই ব্যক্তি বা বেসরকারি মালিকানায় গণমাধ্যম থাকা ঠিক না। তবু মুক্তবাজার বলে কথা! প্রাইভেটাইজেশনকে না বলা অন্যায় হবে। বরং ম্যাসমিডিয়াকে ম্যাস প্রাইভেটাইজেশনে নিয়ে যেতে হবে। ঘরে ঘরে টিভি-রেডিও-সংবাদপত্র-অনলাইন! মিডিয়ার ম্যাস প্রাইভেটাইজেশন দিয়েই এই করপোরেট আগ্রাসনকে প্রতিহত করতে হবে। সংবাদ গ্রাহকের মনে যে নিউজ সেন্স আর কমনসেন্স, একটা স্মার্টফোনই পারে তাকে দক্ষ নাগরিক সাংবাদিক বানিয়ে ফেলতে।
৪.
কোনও ব্যক্তির মালিকানায় পত্রিকা থাকলে সেটা ওই ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিই প্রকাশ করবে। ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনও টিভি বা সংবাদপত্র যদি দাবি করে, সে জনগণের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করছে; মধ্যবিত্ত বাঙালি বুঝে গেছে, দাবিটা ভিত্তিহীন। গণতন্ত্র bKash-এর স্বার্থেই, কোনো ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের মালিকানার অনুমতি দেয়া যায় না। আর দিলে, প্রত্যেক নাগরিককেই সে অধিকার দিতে হবে– নিজেই সংবাদ প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার।
৫.
নিউজ শুনতে-পড়তে অভ্যস্ত জনগোষ্ঠীর হাতে যখন স্মার্টফোন, তারাতো সিটিজেন জার্নালিজমে ডুববেই। আগে কোপাইতে দেখলে যে প্রজন্ম গোল হয়ে দাঁড়িয়ে দেখতো, কোনও অ্যাকশন-রিঅ্যাকশনে যেতো না; তাদের সন্তানরাই এখন অপরাধ ভিডিও করছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে। সিলেটে শিশু সামিউল হত্যা বা খাদিজাকে কোপানোর ভিডিও আদালতকেও দ্রুত করছে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







