সাভারে নববর্ষ ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘বইজান্তার বইমেলা’র সমাপনী দিনে দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। বইজান্তা ডটকমের আয়োজনে চার দিনব্যাপী এ বইমেলা আজ রবিবার রাত ১০টায় সফলভাবে শেষ হয়েছে।
রবিবার বিকালে মেলার স্টলগুলো ঘুরে জানা যায়, এই প্রথম সাভার উপজেলায় বইমেলার আয়োজন করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অনেকটা উৎসবের আমেজে মেলায় ভীড় করেন। বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন আসরের পর থেকে মেলায় লোকসমাগম বাড়তে থাকে। বইমেলায় শিশু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ের চাহিদা ছিলো সবচেয়ে বেশি।
সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী রাইসা আক্তার বলেন, নিয়মিত এ ধরনের বইমেলার আয়োজন করলে উপজেলার কিশোর-তরুণরা বইপড়ায় আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। মেলায় মুক্তিযুদ্ধ ও শিশু-কিশোরদের জন্য আসা বই ভালো লেগেছে বলে জানায় রাইসা।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় বইমেলার সমাপনী দিনে আলোচনা সভা ও সমাপনী অনুষ্ঠান হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে প্রথম আলো ইয়ুথ প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ড. মুনীর হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশকে তরুণরাই যুগযুগ ধরে আলোকিত করেছে। বইজান্তার সদস্যরা সেই তরুণদেরই উত্তরাধিকার।’
বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে ভাষা আন্দোলন জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এবং বইজান্তা ডটকমের উপদেষ্টা এম.আর. মাহবুব বলেন, ‘কতিপয় তরুণদের এই ঐতিহাসিক বইমেলার উদ্যোগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সবজান্তার আগে মানুষকে বইজান্তা হতে হয়। বই পড়ার মাধ্যমেই একজন মানুষ সত্যিকারের আদর্শিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’
বইমেলার আয়োজক ও বইজান্তার প্রধান নির্বাহী কামরুল হাসান খান বলেন, বইজান্তার প্রত্যেকটা সদস্য যে স্বপ্ন লালন করে, আমরা প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে সেই স্বপ্নটা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা চাই বইজান্তার সেই স্বপ্নটা ভাইরাস আকার ধারণ করুক। সেই ভাইরাসটা ছড়িয়ে পড়ুক সাভারসহ দেশের প্রত্যেকটা জেলা-উপজেলা ও মফস্বলে।
বইজান্তার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আব্দুল্লা আল ফুয়াদ ত্বোহা বলেন, আমরা সবসময় বিশ্বাস করি একদল তরুণই পারে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। তরুণরাই পারে দেশের পরিবর্তন আনতে। শুধু তার জন্য দরকার ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার শক্তি। আমি চাই বইজান্তার সদস্যদের মতো দেশের সকল
তরুণরা যেনো একসাথে মিলে কাজ করে।
সাভার উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত ১৩ এপ্রিল (শুক্রবার) থেকে সাভার নামা বাজার সংলগ্ন পঞ্চবটী আশ্রম প্রাঙ্গণে বইমেলা শুরু হয়। মেলায় বাংলা একাডেমি সহ সর্বমোট ২১টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নেয়।
চার দিনব্যাপী এ মেলায় তরুণ শিক্ষার্থীদেরকে বইপড়ায় আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষার্থীদের মাঝে কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও রচনা প্রতিযোগিতা ইত্যাদির আয়োজন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী মোট ২৫ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেয়া হয়। এছাড়াও শিশু-কিশোদেরকে বইপড়ার প্রতি আগ্রহী করার জন্য শিশুদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়।







